ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের পূর্বাভাস পেতে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকগণ কোভিড-১৯  আক্রান্তদের অবস্থান নির্ণয় জরিপ বা ম্যাপিং করছেন

শেয়ার আমেরিকা
লিখেছেন লরেন মনসেন – ১৫ মে ২০২০
কম্পিউটার বিজ্ঞানী মাধব মারাঠে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকম্প্লেক্সিটি ইনস্টিটিউটে একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। (© ড্যান অ্যাডিসন/ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)

 

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকম্প্লেক্সিটি ইনস্টিটিউটের গবেষকগণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্তদের অবস্থান নির্ণয় বা ম্যাপিং এবং জনসমাজে এর সম্ভাব্য প্রভাব অনুমানের লক্ষ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের পাঁচ বছর মেয়াদী গণনা বিষয়ক একটি অনুদান জিতেছে।

ইনস্টিটিউটের গবেষকগণ জনস্বাস্থ্য সংকট ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে থাকেন। এর একটি বিভাগের পরিচালক এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক মাধব মারাঠে নতুন এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এ অনুদানের আওতায় ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও মহামারীবিদগণ বৃহৎ-উপাত্ত গণনার উপকরণ ব্যবহার বিষয়ে অন্যান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি দলের নেতৃত্ব দেবেন। রোগের বিস্তারে মানুষের আচরণ কীভাবে প্রভাব ফেলে সে বিষয়ক পর্যবেক্ষণে এ ধরনের উপাত্ত বিশেষজ্ঞদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে।

চাহিদার পূর্বাভাস পেতে ডিজিটাল প্রতিরূপ বা সিমুলেশন তৈরি
 

বিভিন্ন নগর এমনকি দেশ পর্যবেক্ষণের জন্য ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ প্রথমে সেই স্থানের ডিজিটাল “প্রতিরূপ” তৈরি করেন- ঠিক যেভাবে জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিমসিটি’র খেলোয়াড়রা খেলে থাকে। তবে কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের এই সৃষ্টির মধ্যে উক্ত এলাকার সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো, জনমিতি এবং বসবাস, কেনাকাটা ও কাজের স্থানগুলো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।

বায়োকম্প্লেক্সিটি ইন্সটিটিউটের গবেষকগণ কোভিড -১৯’এর পথরেখা অনুসন্ধান করছেন। (© ড্যান অ্যাডিসন/ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)

মারাঠের মতে ডিজিটাল প্রতিরূপ বা সিমুলেশনের মাধ্যমে “স্বল্প সংখ্যক সংক্রমণ থেকে রোগের সম্ভাব্য বিস্তার” নির্ণয় করা সম্ভব হয় এবং সামাজিক দূরত্বের ন্যায় বিভিন্ন আচরণের ভিত্তিতে এতে বিভিন্ন ফলাফল বেরিয়ে আসে।

কোভিড-১৯’এর বিরুদ্ধে লড়াই

 

মারাঠে ও তাঁর সহকর্মীরা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সকল কাউন্টির জন্য কোভিড-১৯ আক্রান্তের সম্ভাব্য সংখ্যা বিষয়ে পূ্র্বাভাস দিয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন ভেন্টিলেটর এবং ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেডের চাহিদার পূর্বানুমান করতে তাঁরা তাঁদের পূর্বাভাস হালনাগাদ অব্যাহত রাখবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুরোধে কোভিড-১৯’এর গতিধারা বিষয়ে আরো ভালো ধারণা পেতে প্রতিষ্ঠানটি ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের জন্যও গণনা কাজ পরিচালনা করছে।

অনুদানটি এসকল গবেষকের জন্য উহান ও নিউ ইয়র্ক থেকে লব্ধ জ্ঞান অনুধাবনে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সাথে সহযোগিতাভিত্তিক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিভিন্ন সরঞ্জাম যেমন ভেন্টিলেটর ইত্যাদি কীভাবে আরো ভালোভাবে ভাগাভাগি করা যায় এবং মাঠ পর্যায়ে নতুন হাসপাতালের অবস্থান বের করা যায় সে বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানে এই গবেষকেরা ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ডের অধ্যাপকদের সাথেও কাজ করবেন।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের হ্রাস বৃদ্ধির মডেল আরো উন্নত করার লক্ষ্যে গবেষকেরা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত হবেন। বিভিন্ন দেশে সামাজিক-দূরত্ব বজায়ের পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে তাঁরা একটি বহু-উৎসভিত্তিক বা ক্রাউডসোর্সিং অ্যাপ ব্যবহার করবেন।

অনুদানটি ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য নেতৃত্বশীল ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি করবে কেননা তাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহসাথীদের নিয়ে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, সেন্টার ফর ডিজিস ডায়নামিক্স, ইকোনোমিক্স অ্যান্ড পলিসি, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি, লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, অ্যালবানিতে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটি।