যুক্তরাষ্ট্রের “প্রথম রোগী” কোভিড-১৯ এর অনেকগুলো ওষুধের একটির পরীক্ষাকে উৎসাহিত করেছেন

ড. জর্জ ডিয়াজ যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ এর নিশ্চিত সংক্রমণের শিকার হয়েছেন এমন এক রোগীকে প্রথম চিকিৎসা দিয়েছেন। এই চিকিৎসা কোভিড-১৯ এর অন্যান্য সম্ভাব্য চিকিৎসার গবেষণাকে উৎসাহ যুগিয়েছে। (স্বত্ত্ব: টেড এস ওয়ারেন/এপি ইমেজেস)
শেয়ার আমেরিকা
লরেন মনসেন – ১১ জুন, ২০২০

 

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রোভিডেন্স রিজিওনাল মেডিক্যাল সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. জর্জ ডিয়াজ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নিশ্চিত কোভিড-১৯ রোগীকে প্রথম চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে কথা বলেছেন।

এই রোগীকে ওয়াশিংটনের এভারেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কোভিড-১৯ এর প্রচলিত লক্ষণ – জ্বর, কাশি ও ক্লান্তি নিয়ে। হাসপাতালে এক সপ্তাহ থাকার পর এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর এই রোগীকে পরীক্ষামূলক ওষুধ রেমডিসিভির দেওয়া হয়।

ডিয়াজ বলেন, এর আগে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের সময় স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর পরীক্ষা করে রেমডিসিভির নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হলেও এটি ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে খুব কার্যকরও ছিল না। তিনি বলেন, এই ওষুধ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ এর “প্রথম রোগীর” আর কৃত্রিম অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। ডিয়াজ বলেন, এর পর থেকে  এই রোগী “অনেক ভালো করেছে।“

জানুয়ারি মাসে ওয়াশিংটনের প্রোভিডেন্স রিজিওনাল মেডিক্যাল সেন্টার। (স্বত্ত্ব: জ্যাসন রেডমন্ড/এএফপি/গেটি ইমেজেস)
আশাব্যঞ্জক পরীক্ষা

“প্রথম রোগীর” চিকিৎসার পরপরই প্রোভিডেন্স রিজিওনাল মেডিক্যাল সেন্টার রেমডিসিভিরের (যুক্তরাষ্ট্রের গিলিয়েড সায়েন্সেস কর্তৃক তৈরি) ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করে, যা থেকে জানা যায়, যেসব রোগী লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম ১০ দিনের মধ্যে এ ওষুধ গ্রহণ করেছেন, তারা যারা করেননি তাদের চেয়ে ভালো ফল পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথও রেমডিসিভিরের একটি পরীক্ষা চালিয়েছে এবং এটির উপাত্ত জানাচ্ছে, যেসব কোভিড-১৯ রোগীকে এ ওষুধের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তাদের সেরে ওঠার সময় প্রায় চার দিন কমে এসেছে।

প্রকট নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে রেমডিসিভির চিকিৎসা-পদ্ধতি অনুমোদন করেছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)।

(স্টেট ডিপার্টমেন্ট/মি. রিওস)
অন্যান্য চিকিৎসা-পদ্ধতির পরীক্ষা  

এফডিএ-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে ১৪৪টি সম্ভাব্য ওষুধের পরীক্ষা চলছে, যার মধ্যে আছে এফডিএ-এর তদারকিতে ৭২টি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। আরো ৪৫৭টি পরীক্ষার পরিকল্পনা চলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস রেজিস্ট্রি প্লাটফর্ম বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য ২৭৩৯টি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তালিকা করেছে। এতে চলমান ও সমাপ্ত উভয় ধরনের পরীক্ষাই আছে।

এইসব চিকিৎসা-পদ্ধতির কোনো কোনোটা নিয়ে যারা গবেষণা করছেন, তারা প্রাথমিক হলেও প্রতিশ্রুতিশীল ফলাফল প্রকাশ করেছেন।

হংকং-এ দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে তিনটি ওষুধের একটি সমন্বয় – ইন্টারফেরন বেটা-ওয়ানবি (জার্মানির বাইয়া কোম্পানির তৈরি করা), লোপিনাভির/রিটোনাভির (যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান অ্যাবভির তৈরি করা) এবং রিবাভিরিন (সুইস প্রতিষ্ঠান রস প্রোডাক্টস লিমিটেডের তৈরি) – মৃদু ও মাঝারি ধরনের কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় সফল।

চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত এইসব পরীক্ষার ফলাফল জানাচ্ছে, তিন ওষুধের সমন্বয়  একজন ব্যক্তির দেহে ভাইরাসটি সনাক্তযোগ্য হওয়া ও অন্যদের মাঝে সংক্রমণযোগ্য হওয়ার সময়কাল কমিয়ে আনে। এই চিকিৎসা রোগীর হাসপাতালবাসের সময়ও কমায়।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য গবেষক ড. ইউয়েন কেওক-উং মেডিক্যাল নিউজ টুডে-কে বলেছেন, ইন্টারফেরন বেটা-ওয়ানবি হয়তো তিন ওষুধ সমন্বয়ের প্রধান উপকরণ। তবে তিনি একটি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। “আমাদের বৃহত্তর, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, শুধু ইন্টারফেরন বেটা-ওয়ানবি অথবা অন্য ওষুধের সঙ্গে এটির সমন্বয় ভয়াবহ অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে কার্যকর” যাদের দেহে ভাইরাসটি বংশবিস্তারের বেশি সময় পেয়েছে।

ডিয়াজ বলেন, তার নিজের মতে, লোকজনের উচিৎ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে চলা। তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব এখনও “কোভিড-১৯ এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।“