যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের এডুকেশন ইউএসএ ২০১৯ দক্ষিণ এশিয়া ফল/শরৎকালীন ট্যুরএ উদ্বোধনী বক্তব্য

সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ – আজ বাংলাদেশে চার বছরের মধ্যে প্রথম আয়োজিত এডুকেশন ইউএসএ ফেয়ারে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত! এডুকেশন ইউএসএ ২০১৯ এর দক্ষিণ এশিয়া ফল/শরৎকালীন ট্যুরের প্রথম স্টপ ঢাকা। এতে আরও আছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান।

এডুকেশনইউএসএ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশ্বের ১৭৮ টি দেশে ছড়িয়ে থাকা ৪২৫ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পরামর্শ কেন্দ্রের একটি নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে বাংলাদেশে আছেন সাতজন উপদেষ্টা। স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে এই নেটওয়ার্কটি বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণে সহায়তা করে। এডুকেশন ইউএসএ এর সব সেবা মেলে নিখরচায়।

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশে সহায়তা করাই দক্ষিণ এশিয়া ফল/শরৎকালীন ট্যুর ২০১৯ এর লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যোগ্য, অনুপ্রাণিত এবং যথাযথভাবে প্রস্তুত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিকীকরণে অঙ্গীকারবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একত্রিত হয়ে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে। আজকের মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের মাত্রা দেখে আমি অভিভূত। আমরা প্রত্যাশা করছি, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ফেয়ারে অংশ নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন ধরনের গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের অফার নিয়ে আসা ২৬ টি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।

যুক্তরাষ্ট্র এর উঁচু মানের গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। আমাদের আছে ৪,৭০০ এরও বেশি স্বীকৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর আকাঙ্খা এবং আর্থিক সামর্থ্যরে সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গোটা বিশ্বের অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অসামান্য সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয়। তারা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠান এবং কোর্সগুলো সম্পর্কে কথা বলতে তৈরি। ঢাকা দূতাবাসের এডুকেশনইউএসএ পরামর্শ কেন্দ্র আজ বিকেলে সফররত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক ছাড়াও এফ ১ শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কিত তথ্য সেশন, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক আলোচনা এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেছে। প্যানেল অনুষ্ঠানটিতে সাবেক শিক্ষার্থীরা নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার অভিজ্ঞতার কথা শোনাবেন।

বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানো শীর্ষ ২৫ টি দেশের একটি। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৭,৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনা করছে। আগের শিক্ষাবর্ষের চেয়ে তা পাঁচ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের এক জোরদার রেকর্ড রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা আমাদের ঢাকা দূতাবাসের একটি শীর্ষস্থানীয় অগ্রাধিকার। আর এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য আমাদের এ দেশের তিনটি স্থানে সাতজন এডুকেশনইউএসএ’র পরামর্শক রয়েছেন। স্থানগুলো হচ্ছে দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টার, ঢাকার এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার এবং চট্টগ্রামের আমেরিকান কর্নার। আমরা অদূর ভবিষ্যতে ঢাকার বাইরে অন্য কোনো একটি স্থানে আরেকজন বাড়তি পরামর্শক যুক্ত করার প্রত্যাশা করছি। আমরা খুলনা, সিলেট এবং রাজশাহীর আমেরিকান কর্নারের মাধ্যমেও এডুকেশনইউএসএ’র দেওয়া সুযোগসুবিধা এবং দূরবর্তী পরামর্শ পরিসেবা দিয়ে থাকি।

পরিশেষে আমি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রথমেই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আজকের মেলায় অংশ নিতে বাংলাদেশে আসা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোর প্রতিনিধিদের। আশা করি আপনারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের মতোই মুগ্ধ হবেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের ২০ জন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবীদের এক বিশাল ধন্যবাদ। আসুন আমরা এই স্বেচ্ছাসেবকদের করতালি দিয়ে সাধুবাদ জানাই। তাদের নেপথ্য প্রচেষ্টা এবং প্রয়োজনীয় যে কোনো কাজ করার সদিচ্ছা ছাড়া এ মেলার আয়োজন করা সম্ভব হতো না। এবং সবশেষে তবে নিশ্চয়ই কারো চেয়ে কম নয় আমি এই মেলাকে বাস্তবে পরিণত করতে অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমার দূতাবাসের এডুকেশনইউএসএ এবং কালচারাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের কর্মীদলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই!

আর দেরি না করে আমি বাংলাদেশে এডুকেশন ইউএসএ ২০১৯ দক্ষিণ ফল/এশিয়া শরৎকালীন যাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করছি! ধন্যবাদ!