কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মেধাবীরা 

দুই দুফায় ফুলব্রাইট বৃত্তিপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষার্থী এলভিস রিভেরার হাতে হন্ডুরাসের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যে তাঁর নিজের বানানো মুখাবরণ (সৌজন্যে এলভিস রিভেরা)
শেয়ারআমেরিকা
নোয়েলানি কার্শনার -১৩ মে, ২০২০

সারা বিশ্বের যেসব মেধাবী ব্যক্তি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফুলব্রাইট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁরা কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর সময় নিজ নিজ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছেন।

১৬০টি দেশের সঙ্গে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ফুলব্রাইট কর্মসূচি সব বিষয়ের শিক্ষার্থী, পণ্ডিতব্যক্তি, শিক্ষক, শিল্পী ও বিজ্ঞানীদের জন্যে অভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যাসমুহের সমাধান খোঁজার সুযোগ করে দেয়।

হন্ডুরাসের স্যান পেদ্রো দে কোপানে মাধ্যমিক ও হাই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক এলভিস রিভেরা ২০১৪ সালে ফুলব্রাইট টিচিং এক্সেলেন্স অ্যান্ড অ্যাচিভমেন্ট প্রোগ্রাম এবং ২০১৮ সালে ফুলব্রাইট ফরেইন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম শেষ করেন।

নিউ ইয়র্কের সাইরাকিউস ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে রিভেরা আটলান্টার সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সফর করেছিলেন, যেখানে তিনি জনস্বাস্থ্য বিষয়ে মহামারীবিদ ড. ইউলিয়াম ফোয়েগের বক্তৃতা শোনেন। রিভেরা বলেন, এই বক্তৃতা কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কালে নিজ দেশতে সহায়তা করার জন্য তাকে প্রস্তুত করে তোলে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমার দেশের জনস্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য অবদান রাখার মধ্য দিয়ে আমি ড. ফোয়েগেকে সম্মান জানাচ্ছি।“

মহামারী ছড়ানোর পর থেকে রিভেরা নিজে ৪৪টি মুখাবরণ তৈরি করেছেন, যাতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ কিলোগ্রাম অশোধিত পলিল্যাকটিক এসিড উপকরণ ও রিসাইকেল করা প্লাস্টিক। এইসব মুখাবরণ তৈরিতে এগুলোই যথেষ্ঠ।

তিনি বলেন, প্রতিটি মুখাবরণ তৈরিতে প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লেগেছে, যার মধ্যে আছে গলিয়ে ফেলা সোডার বোতলসমুহকে প্রস্তুত করা। তিনি তাঁর নিজের শহর কুকুইয়াগুয়ার সরকারি জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্যান পেদ্রো দে কোপানের সরকারি জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসাকর্মীদের মাঝে এইসব মুখাবরণ দান করেন। তিনি বলেন, “নিকটবর্তী শহরের হাসপাতালের কিছু কর্মীও কিছু কিছু মুখাবরণ পেয়েছেন।“

ড. আশীষ গোয়েল বাল্টিমোরে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে তার মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করার জন্যে ২০১৬ সালে ফুলব্রাইট-নেহেরু অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড প্রফেশনাল এক্সেলেন্স ফেলোশিপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মহামারীবিদ্যা ও জৈব-পরিসংখ্যান বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন এবং “মহামারীবিদ্যায় গভীর অনুধাবন ও জৈব-পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের দক্ষতার কারণে তিনি আরো সমর্থবান শিক্ষক ও কারণে যোগ্য গবেষক হয়ে ওঠেন,“ তিনি বলেন।

দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে সহকর্মীদের সঙ্গে ড. আশীষ গোয়েল। (সৌজন্যে আশীষ গোয়েল)

বর্তমানে দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ড. গোয়েল তাঁর ইনস্টটিটিউশনের করোনাভাইরাস চিকিৎসা পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তাঁর ফুলব্রাইট অভিজ্ঞতা তাঁকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করে তুলেছে।

তিনি বলেন, “এই ফেলোশিপ না পেলে যতোটা হতো, এখন রোগটিকে তার চেয়ে শুধু যে বেশি ভালো করে বুঝতে পারছি তা-ই নয়, আমাদের হাসপাতালে আমার সহকর্মীদেরও আমি এই দৃষ্টি উপহার দিতে পারছি।”