বিজিএমইএ মধ্যাহ্নভোজে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এর বক্তব্য

বিজিএমইএ মধ্যাহ্নভোজে

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এর বক্তব্য 

বিজিএমইএ কমপ্লেক্স (১২ তলা), কারওয়ান  বাজার ঢাকা
সেপ্টেম্বর ২৫,২০১৮

 

এ মধ্যাহ্নভোজ আয়োজনের মাধ্যমে আপনারা যে আতিথেয়তা দেখিয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তির ব্যবস্থাপনায় আপনাদের অনন্য ভূমিকার আমি প্রশংসা করি। এ শিল্পের মাধ্যমে লাখো শ্রমিক দারিদ্রের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে বিশ্ববাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে।

বাংলাদেশে আমার কার্যকালে যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কথাটির মর্যাদা নিশ্চিত ও আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে গিয়ে যে অর্জন আর চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে, তার মূল্যায়নের সুযোগ পাওয়ার জন্যও কৃতজ্ঞ আমি।

২০১৩ সাল থেকে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সহায়তায় আপনারা তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে বিশাল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। এগুলো এখন বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ কারখানাগুলোর মধ্যে পড়ে। এ সময়কালের একটা বড় অংশই আমি এদেশে ছিলাম বলে সচক্ষে এই রূপান্তরটা প্রত্যক্ষ করেছি। আমি জানি এটা ছিল খুবই কঠিন আর ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। তবে আপনারা যদি আত্মতৃপ্তিতে না ভোগেন তাহলে বহুদিন ধরে এর সুফলও পাবেন। এখনকার চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় কারখানাগুলোর সংস্কারের কাজ শেষ করা এবং অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কারখানাগুলোতে অর্জিত অগ্রগতি বজায় রাখা।

আমি আপনাদের অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেবো। কষ্টার্জিত অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য আরসিসি (রেমিডিয়েশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টার) পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নিতে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এসএমও (সেফটি মনিটরিং অর্গানাইজেশন) এর মতো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে বলবো আপনাদের।

তবে বিজিএমইএ-র জন্য পরবর্তী বড় বাধাটি হচ্ছে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে অগ্রগতি ছিল শ্লথ। আমি যে কথাটা অনেকবার জোর দিয়ে বলেছি, আন্তর্জাতিক শ্রম নীতিগুলো মেনে চলা কেবল সঠিক কাজই নয়, এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমি আপনাদের যত দ্রুত সম্ভব আইনগত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনাতে উৎসাহিত করতে চাই। বিষয়টি দীর্ঘায়িত করলে কোনো লাভ হবে না। আইনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত এবং তা কার্যকর করলে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। এটি বিশ^বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ব্যবসার অংশ বাড়াতেও সহায়তা করবে। ভোক্তারা এখন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রম ইস্যুগুলোকে ক্রমেই বেশি করে বিবেচনায় নিচ্ছে। তাই ব্যবস্থা নিতে দেরি করা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বিদেশি ক্রেতাদের অন্যত্র ঝুঁকে পড়ার হুমকিও বাড়বে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছরে এতদূর এসেছে। এদেশের আরও অনেক কিছু অর্জনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সম্প্রতি আমরা এ দেশের নি¤œ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জনটি উদ্্যাপন করেছি। ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য জাতিসংঘের তিনটি শর্তের প্রত্যেকটিই এরই মধ্যে পূরণ করার জন্য আমরা বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাই। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকা নির্ভর করবে বাংলাদেশের সতর্ক থাকা এবং কারখানা নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকারের মতো বিষয়ে কাজ করে যাওয়ার ওপর।

গত তিন বছরে সযতেœ গড়ে ওঠা আমাদের চমৎকার অংশীদারিত্বের জন্য আমি আবারও বিজেএমইএ-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আপনাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে প্রভ’ত সাফল্য এবং সৌভাগ্য কামনা করি। উভয় দেশের পারস্পরিক কল্যাণে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরও অনেক দিন অব্যাহত থাকবে সেটাই প্রত্যাশা করি।

শুভকামনা রইল। ধন্যবাদ। আবার দেখা হবে… ।

* বক্তৃতার জন্য প্রস্তুতকৃত