২০তম বার্ষিক মানব পাচার প্রতিবেদন প্রকাশ

মানব পাচার প্রতিবেদনের ২০তম বার্ষিকী মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দুই দশকের অগ্রগতি চিহ্নিত করেছে।
ফরেন প্রেস সেন্টার ব্রিফিং
জন কটন রিচমন্ড, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ
মানব পাচার পরিবীক্ষণ ও প্রতিরোধ কার্য্যালয়
বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২০; বেলা ৩:৩০
ওয়াশিংটন ডিসি

 

সারসংক্ষেপ

মানব পাচার (ট্রাফিকিং ইন পারসনস – টিআইপি) প্রতিবেদন মানব পাচার বিষয়ে বিদেশের সরকারগুলোকে যুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান কূটনৈতিক উপকরণ। এটি সরকারি পর্যায়ে পাচার-বিরোধী প্রচেষ্টায় বিশ্বের সবচেয়ে বিশদ সম্পদ এবং এটি মানবাধিকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটিতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দানে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড ২০২০ টিআইপি প্রতিবেদন এবং মানব পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।

 

ওয়াশিংটন ফরেন প্রেস সেন্টার, ওয়াশিংটন ডিসি

সঞ্চালক: হ্যালো। আমি ব্রুস জনসন।  ২০তম বার্ষিক মানব পাচার প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ে ফরেন প্রেস সেন্টারের ভিডিওকনফারেন্স ব্রিফিংয়ে স্বাগতম। বৈঠকের হোস্ট এখন সকল সাংবাদিকের মাইক্রোফোন মিউট করে দেবেন। প্রশ্ন করতে আহ্বান না করা পর্যন্ত দয়া করে আপনাদের মাইক্রোফোন মিউট রাখুন। যদি সম্ভব হয়, অনুগ্রহ করে আপনার নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রতিষ্ঠান যে দেশের সেই দেশের নাম প্রদর্শনের জন্য আবার লিখুন। আমার সহকর্মীরা আমাদের পাওয়া আরএসভিপি তথ্য ব্যবহার করে সাংবাদিকদের নাম পুনরায় লিখে নেবেন। যেসব সাংবাদিকের নাম ও প্রতিষ্ঠান তালিকাভূক্ত হয়েছে, প্রশ্নোত্তরে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং প্রাথমিকভাবে এফপিসি সাংবাদিকদের আহ্বান করা হবে। ‘জুম’ পর্দার নিচের দিকে “রেকর্ড” বাটনে ক্লিক করে আপনারা এই ব্রিফিং রেকর্ড করতে পারেন, এবং আমরাও এই ব্রিফিংয়ের ট্রান্সস্ক্রিপ্ট পাঠিয়ে দেবো এবং আমাদের এফপিসি ওয়েবসাইটে – fpc.state.gov ভিডিওটি পোস্ট করবো। ব্রিফিংকালে আপনাদের যদি কোনো কারিগরী সমস্যা দেখা দেয়, আপনারা চ্যাট ফিচার ব্যবহার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে মিটিং হোস্ট অথবা আমার এফপিসি সহকর্মীদের কেউ সহায়তা করার চেষ্টা করবে। জুম অধিবেশন ব্যর্থ হলে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যে কেউ অনুগ্রহ করে লিংকে ক্লিক করে পুনরায় যোগ দেবেন এবং আমাদের বুনিয়াদি নিয়ম হলো এটি রেকর্ডে থাকবে।

এখন আমি আমাদের ব্রিফিংকারীকে পরিচয় করিয়ে দেবো এবং এখানে আসার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাব। অ্যাম্বাসেডর জন কটন রিচমন্ড মানব পাচার পরিবীক্ষণ ও প্রতিরোধ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ডিপার্টমেন্টের মানব পাচার পরিবীক্ষণ ও প্রতিরোধ কার্য্যালয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৮ সালে সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে তার নিয়োগ নিশ্চিত করে এবং মানব পাচার প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারে পাচার-বিরোধী প্রচেষ্টাসমুহের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে নিয়োগ দেন।

বিশ্বব্যাপী মুক্তির লড়াইতে একটি বিশিষ্ট ক্যারিয়ার অনুসরণের পর অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড মানব পাচার রোধে নিবেদিত ফেডারেল সরকারের সর্বোচ্চ পদে উন্নীত হয়েছেন।

কাজেই এখানে আসার জন্য আপনাকে আরেকবার ধন্যবাদ, অ্যাম্বাসেডর। আমি আপনাকে আপনার শুরুর বিবৃতি প্রদান করতে দিচ্ছি এবং এরপর আমি প্রশ্নোত্তর পর্ব সঞ্চালন করবো।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আজ আপনাদের সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারার চমৎকার সুযোগ পেয়েছি। ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পম্পেও ২০তম বার্ষিক মানব পাচার প্রতিবেদন অবমুক্ত করেছেন। এই প্রতিবেদনের তাৎপর্য নিয়ে আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত, বিশেষ তাৎপর্যবাহী এই মুহূর্তটি, ট্রাফিকিং ভিক্টিম প্রোটেকশন অ্যাক্টের ২০তম বার্ষিকী ও জাতিসংঘের পালের্মো প্রোটোকলের ২০তম বার্ষিকী, যে প্রোটোকল হলো সবচেয়ে বেশি গৃহিত আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো। কাজেই এ নিয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত। টিআইপি প্রতিবেদন এখনও বিশ্বজুড়ে মানব পাচার বিষয়ক তথ্যের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি। এটি ১৮৮টি দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে, তুলে আনে মামলা পরিচালনা, সুরক্ষা ও প্রতিরোধ – এই তিন ক্ষেত্রে দেশগুলো কেমন করছে। সরকারগুলো কিভাবে আরো ভালো করতে পারে, সে বিষয়েও কিছু সুপারিশ থাকে প্রতিবেদনে। আমরা একটি র‌্যাংকিং দিয়ে থাকি এবং মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করার অভিন্ন লক্ষে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোন কোন বিষয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এরকম একটি বিবরণীও থাকে। কাজেই প্রতিবেদনটি কর্তৃত্বমূলক, এটি কেবলই এক রোগনির্ণয়ের উপায় নয় এবং এটি এমন এক প্রদিবেদন যা বছরের পর বছর ধরে পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছে। আমরা অবশ্যই দেখেছি টিআইপি প্রতিবেদন ও এটির দিকনির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে অনেক দেশ পরিস্থিতির উন্নতি ও পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

আপনারা আজ যেহেতু টিআইপি প্রতিবেদনটি পড়তে যাচ্ছেন এবং এ বিষয়ে কিভাবে লিখবেন, কী লিখবেন, তা ভাবছেন, দুয়েকটি ভাবনা তুলে ধরি। জানিয়ে রাখি, প্রতিবেদনটির একটি রেটিং কাল আছে – আমাদের তথ্য সংগ্রহের সময়কাল প্রত্যেক বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ এবং এ কারণে এই বছরকালে সরকারগুলোর কর্মকাণ্ডই কেবল টিআইপি প্রদিবেদনে মূল্যায়ন করা হয়।

আরেকটা জিনিস মনে রাখার মতো, তা হলো টিআইপি প্রতিবেদন এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের তুলনা করে না। বরং এটি প্রতিবেদনের সময়কালে একটি দেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে আগের সময়কালে ওই দেশের প্রচেষ্টার তুলনা করে, কাজেই এটি একটি দেশকে তার নিজের সঙ্গেই পরিমাপ করে। কাজেই আমরা একটি অঞ্চলের দ্বিতীয় সারির কোনো দেশকে নিয়ে আরেক অঞ্চলের দ্বিতীয় সারির আরেকটি দেশের সঙ্গে তুলনা করবো না এবং একই জিনিস প্রত্যাশা করবো না। এখানে আসলে দেখার বিষয় হলো প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা, যতোই দিন গড়াচ্ছে, আমরা টেকসই উন্নতি দেখতে পাচ্ছি কিনা এবং আমি মনে করি এগুলো টিআইপি প্রতিবেদন পাঠে এবং অনুধাবনে আপনাদের সহায়তা করবে।

এ বছর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়: আগের বছরের তুলনায় এবার আমরা ২৩টি দেশের অবনমন এবং ২২টি দেশের উন্নয়ন দেখেছি। আমরা এও দেখেছি যে, ১৪টি দেশ দ্বিতীয় সারি পর্যবেক্ষণ তালিকা থেকে উন্নতি পেয়ে দ্বিতীয় সারিতে উঠে এসেছে, কাজেই প্রতিবেদনে আমরা সারির কাঠামোর মধ্যে ওঠানামার দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক সচলতা দেখতে পাচ্ছি।

আমি এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই ২০১২ সালের পর থেকে এই প্রথম আমরা আফ্রিকার একটি দেশকে প্রথম সারি অর্জন করতে দেখছি। সেই দেশটি নামিবিয়া এবং তাদের প্রচেষ্টার জন্য আমরা তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। উন্নতির জন্য কাজ করায় আমরা ওই দেশের সরকারের প্রশংসা করি। আমি আরও জানাতে চাই, আমাদের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বহু বছর ধরে সেখানে কাজ করার অবদানও বিরাট, আমাদের সক্রিয় কূটনীতি, সেখানকার সরকারকে সহায়তার জন্য আমাদের বৈদেশিক সহায়তার বিনিয়োগের মাধ্যমে তা করা হয়েছে, কাজেই আমি মনে করি এটি অগ্রগতির পথ একটি উৎকৃষ্ট সূচক।

এ বছরের টিআইপি প্রতিবেদনের একটি নতুন দিক হলো ২০১৯ সালে কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করে ট্রাফিকিং ভিক্টিম প্রোটেকশন অ্যাক্টের একটি নতুন বিধানকে আইনে রূপ দিয়েছেন যাতে রাষ্ট্র-অনুমোদিত জবরদস্তিমূলক শ্রমের ব্যাপারে আমাদের অভিনিবেশ আরো প্রখর হয়েছে। এই নতুন আইনে বলা হয়েছে যেখানেই মানব পাচারে সরকারি নীতি অথবা ছক পরিলক্ষিত হবে, সেখানেই সেসব দেশকে তৃতীয় সারির পর্যায়ভূক্ত করতে হবে। আমি যখন বলি সরকারি নীতি অথবা ছক, তখন আমি এমন তথ্যের কথা ভাবছি ও খুঁজছি, যেখানে লোকজনকে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষায় সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার করার কথা থাকলেও সরকার উল্টো ভূমিকা বদল করে পাচারকারীতে পরিণত হয় এবং প্রকৃতপক্ষে মানব পাচার করে, তাদের জবরদস্তিমূলকভাবে কাজ করায়। সেক্রেটারি অব স্টেট এরকম দশটি দেশের তালিকা করেছেন, যেখানে সরকারের পাচারের নীতি ও ছক বিদ্যমান, এ বছর এই ১০টি দেশই তৃতীয় সারিতে পড়েছে।

আমি আরো উল্লেখ করতে চাই যে, টিআইপি প্রতিবেদন সারা বিশ্বের ১০ জন বীরকে চিহ্নিত করেছে এবং অনুগ্রহ করে সময় নিয়ে তাদের ভালো কাজ তাদের জীবন-কথা পাঠ করুন। আমি মনে করি এটি একটি উজ্জ্বল ক্ষেত্র। এমন কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের আমরা অবশ্যই উদযাপন করতে চাই। টিআইপি প্রতিবেদন পড়ার সময় যে আরেকটি বিষয়ে মনোযোগ দেবেন, তা হলো আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, পাচারকারীদের অপরাধ প্রমাণ হলেও বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো তাদের শাস্তি স্থগিত করছে। এখানে সমস্যাটা হলো, পাচারকারী প্রমাণিত কোনো ব্যক্তি যদি আদালতের সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসে, ভূক্তভোগীরা আশা হারিয়ে ফেলেন যে, পাচারকারীরা নিবৃত্ত হবে। ভূক্তভোগীদের মধ্যে এই আশঙ্কা থেকে যায় যে, পাচারকারীরা ভবিষ্যতে তাদের ভয়ভীতি দেখাবে এবং অন্য কেউ তখন এগিয়ে আসবে না, যদি তারা জানে, এই ব্যবস্থা স্থগিত সাজার বরাতে পাচারকারীদের মুক্তভাবে চলাচল করতে দেবে। কাজেই এ বছরও আমরা এ বিষয়টি দেখতে পাচ্ছি।

আপনাদের এও জেনে রাখতে বলব যে, এ প্রতিবেদন তৈরি করতে স্টেট ডিপার্টমেন্টের দল অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, বিশেষ করে আমি যে দপ্তরে কাজ করি সেই দপ্তর – মানব পাচার পরিবীক্ষণ ও প্রতিরোধ কার্য্যালয় – একটি বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে এই তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। আমি মনে করি, কেবল এ থেকেই প্রতীয়মান হয় এই প্রশাসন মানব পাচারকে কতোটা অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কাজেই এই ভূমিকা শেষে আমি এসব বিষয়ে এখন আপনাদের প্রশ্ন এবং কথোপকথন প্রত্যাশা করছি।

সঞ্চালক: ঠিক আছে, আবারও ধন্যবাদ অ্যাম্বাসেডর। প্রশ্ন করতে চাইলে অনুগ্রহ করে নিচের দিকে অংশগ্রহণকারী তালিকায় রেইজ-হ্যান্ড বাটনে ক্লিক করুন, আমরা আপনাকে কল করবো। অনুগ্রহ করে অংশগ্রহণকারী তালিকায় আপনার নাম ও প্রতিষ্ঠান প্রদর্শিত হচ্ছে কিনা নিশ্চিত করুন। নাহলে নতুন করে আপনার নাম দিন। আমরা কেবল এফপিসি-পরীক্ষিত সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেবো। যদি আপনাদের কোনো ফলো-আপ প্রশ্ন থাকে, আপনি DCFPC@state.govঠিকানায় যোগাযোগ করুন, আমরা আপনার যে কোনো প্রশ্নের জবাব পেতে সহায়তা করবো। আপনি যদি টেলিফোন কল হিসেবে ডায়াল করে থাকেন, আমি ফোন করার সময় আপনি আপনার ডায়াল প্যাডে *৬ নম্বর চেপে আনমিউট করতে পারেন। আপনি চাইলে ক্যামেরার জন্য অনুগ্রহ করে আপনার ভিডিও চালু করার কথা মনে রাখুন।

ঠিক আছে, আমি শুরু করতে যাচ্ছি। আমি দেখতে পাচ্ছি এসএইচকে জাপানের বেন মার্কসের কাছ থেকে আমরা একটা প্রশ্ন পেয়েছি। ঠিক আছে, এক সেকেন্ড।

প্রশ্ন: হ্যাঁ, এই ব্রিফিংয়ের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড। আমার প্রশ্ন হলো: গত বছর জাপান সারি ১ এর দেশ ছিল। এ বছরের প্রতিবেদনে এটি সারি ২-এ স্থান পেয়েছে। কী পরিবর্তনের কারণে জাপান সারি ২ এ নেমে গেল? ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। জাপান ও সারি ১ এ থাকার অর্থ বিষয়ে দুটি কথা: প্রথমত আমি বলবো, সারি ১ এর অর্থ এই নয় যে, একটি দেশ সবকিছু সঠিক করছে, এটি দিয়ে বোঝায় দেশটি সময়ের সঙ্গে আন্তরিকভাবে এবং টেকসই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমার দেখি – প্রতিটি আলাদা বছর এটি ঘটছে। আমরা প্রবৃদ্ধি দেখতে চাই। জানিয়ে রাখতে চাই, কয়েকটি দেশ গত কয়েক বছরে সারি ১ থেকে পড়ে গেছে, যাদের মধ্যে আছে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি, স্লোভাকিয়া – এরা সবাই, এর মধ্যে এ বছর জাপানও আছে। জাপান সরকার মানব পাচার বন্ধ করার সর্বনিম্ন মান রক্ষা করতে পারেনি, তবে এটি করার ক্ষেত্রে দেশটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রচেষ্টা নিয়েছে। তবে, আমরা যেসব প্রচেষ্টার তথ্য পেয়েছি, সেগুলো প্রতিবেদন কালে আন্তরিক ও টেকসই ছিল না। সে কারণে সারি ২ এ জাপানের অবনমন হয়েছে।

আমার মনে হয়, এটা জেনে রাখা সহায়ক হবে যে, জাপান আগের বছরের চেয়ে কম সংখ্যক পাচারকারীর তদন্ত করেছে, বিচার করেছে এবং দোষী সাব্যস্ত করেছে। তারা আগের বছরের চেয়ে কম সংখ্যক পাচারকারীকে কারারুদ্ধ করেছে। কর্তৃপক্ষ পাচারকারীদের পাচার আইনের বাইরে অন্য আইনে বিচার ও দোষী সাব্যস্ত করা অব্যাহত রেখেছে, যেসব আইনে সাজার পরিমাণ কম, যা থেকে লঘু দণ্ডের উদ্বেগ তৈরি হয়। তাছাড়া দেশটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থগিত সাজার প্রস্তাব দিয়েছে , কাজেই পাচারকারীরা সত্যিকার অর্থে কারাগারে যায়নি এবং যথাযথভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জবাবদিহি করা হয়নি, যেটি স্থগিত সাজার একটি সংকট, যা আমি আমার শুরুর মন্তব্যে উল্লেখ করেছি।

এগুলো কয়েকটি কারণ। আপনি যদি বিবরণ পড়ার সময় পান – আমি জানি মাত্র আজই এটি প্রকাশিত হয়েছে – তবে আপনি যদি বিবরণীটি পড়তে পারেন, দেখবেন সেখানে বিচার পর্ব এবং সুরক্ষা পর্বের প্রতিটি উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে আমরা ভূক্তভোগীকে সনাক্ত করা এবং তাদের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথা বলেছি এবং প্রতিরোধ পর্বও পড়ুন – আমরা কী করতে পারি, যেসব ব্যবস্থা পাচারকারীদের কর্মকাণ্ড সহজ করে দেয়, সেগুলো আমরা কিভাবে ভেঙ্গে ফেলতে পারি?

কাজেই আমি মনে করি, জাপানে এখনও অনেক কিছু করার বাকি রয়ে গেছে। আমি বিশেষভাবে কারিগরী ইনটার্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা বলবো, এই কর্মসূচির অধীনে জবরদস্তিমূলক শ্রমের বিষয়টি জাপানে বহু বছর ধরে একটা উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে। জাপান সরকারকে তাদের তদন্ত জোরদার করতে, এ ক্ষেত্রে আরো কাজ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে, আমার মনে হয় এই বিষয়ে তাদের প্রবৃদ্ধির সুযোগ আছে। আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে তারা আরো ভালো করতে পারে।

সঞ্চালক:  ঠিক আছে, ধন্যবাদ। ঠিক আছে, আমাদের পরবর্তী প্রশ্ন আসছে তুরান নিউজ এজেন্সির অ্যালেক্স রাউফোগলুর কাছ থেকে। অ্যালেক্স, অনুগ্রহ করে আপনার প্রশ্নটি করুন।

প্রশ্ন: অবশ্যই। ধন্যবাদ, ব্রুস, আপনার প্রশংসা প্রাপ্য। অ্যাম্বাসেডর, এখানে আসা এবং সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ নথি – আমি তা স্বীকার করি। সম্ভবত বিশ্বের যে অংশে আমি থাকি, সেখানকার অনেক লোকের জন্য সবচেয়ে গোলমালের বিষয় হলো সারির মর্যাদা। আপনি কি অনুগ্রহ করে আরেকটু ব্যাখ্যা করবেন সারি ২ এবং সারি ২ পর্যবেক্ষণ তালিকার মধ্যে তফাৎ কী? এগুলো কি যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে? আমি এটা জানতে চাইছি, কারণ আমি আজারবাইজানের একটি স্বাধীন সংবাদ সংস্থা তুরানের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং আজারবাইজান সারি ২ পর্যবেক্ষণ তালিকায় তালিকাভূক্ত হয়েছে। আমার অনুধাবন হলো, একটি দেশ পর্ববেক্ষণ তালিকায় টানা দুই বছর থাকতে পারে, এরপর হয় এটির উন্নয়ন অথবা অবনয়ন ঘটবে। বিষয় কি তাই? আপনাকে যদি আজারবাইজানের সবচেয়ে দরকারি বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হয়, সেগুলো কী হবে? সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: শুরুতে বলি, আমার বিশ্বাস, আপনার প্রশ্নের প্রথম অংশ হলো বিভিন্ন সারির র‌্যাংকিংয়ের অর্থ কী। কাজেই, আবার বলি, সারি ১ দিয়ে বোঝায় কেউ বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন মান অর্জনে আন্তরিত ও টেকসই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এখানে চারটি সর্বনিম্ন মান আছে। প্রথমটি তিনটি হলো এমন আইনি কাঠামোর উপস্থিতি থাকা সংক্রান্ত যা কার্যকর, কাজেই এই হলো সর্বনিম্ন মান এক, দুই ও তিন। এগুলো টিআইপি প্রতিবেদনের শুরুতেই তালিকা আকারে দেওয়া আছে। আপনারা সেগুলো পড়বেন আশা করি। চতুর্থ সর্বনিম্ন মান কয়েকটি অংশে বিভক্ত এবং এগুলো সবই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত। কাজেই যদি প্রথম তিনটি সর্বনিম্ন মান হয় আইন-কানুন বিষয়ক, চতুর্থ সর্বনিম্ন মান হলো: এই আইন কি প্রয়োগ হয়? এটি কি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ হচ্ছে? আমরা কি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ দেখতে পাচ্ছি, আমরা কি চাহিদা কমে যেতে দেখছি, আমরা কি বিচার পরিচালনা, তদন্ত ইত্যাদি দেখতে পাচ্ছি?

কাজেই এই চার সর্বনিম্ন মানের ওপর ভিত্তি করে আমরা তথ্য সংগ্রহ করি যা মূলত আসে সরকারগুলোর নিজেদের তরফ থেকে এবং বিশ্বজুড়ে আমাদের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা তথ্য সংগ্রহ করি এবং দেখার চেষ্টা করি: তারা কি প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করেছে? আগের প্রতিবেদন কালের তুলনায় তারা কি আন্তরিক ও টেকসই প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে? তারা যদি সারি ২ এ থাকে এবং প্রচেষ্টা না বাড়িয়ে থাকে, তারা কি সারি ২ পর্যবেক্ষণ তালিকায় পড়বে? যদি তারা উন্নতি করে থাকে, তারা উপরে উঠবে। কাজেই এখানে চারটি সেটের ব্যাপার: ১, ২, ২ পর্যবেক্ষণ তালিকা এবং ৩।

আপনি পুরোপুরি সঠিক একটি দেশ কতদিন পর্যন্ত সারি ২ নজরদারি তালিকা য় থাকবে সেই ব্যাপারে বাঁধাধরা নিয়ম আছে। এই পরিবর্তনগুলো ঘটেছে ২০০৮ সালে। কাজেই ২০০৮ সালের আগে আপনি যতোদিন খুশি সারি ২ নজরদারি তালিকায় থাকতে পারতেন। ২০০৮ সালে আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়, যাতে বলা হয়েছে, আপনি সারি ২ নজরদারি তালিকায়  সর্বোচ্চ চার বছর থাকতে পারেন এবং শেষের দুই বছর সেখানে থাকার জন্য সেক্রেটারি অফ স্টেটের পক্ষ থেকে ছাড় পেতে হবে ।

এটি আবার ২০১৯ সালে পরিবর্তন করা হয়, যেখানে সারি ২ নজরদারি তালিকায় সর্বোচ্চ তিন বছর থাকার  বিধান করা হয়, এবং শেষ বছর, তৃতীয় বছর সেক্রেটারির ছাড় জোগাড় করতে হবে। কাজেই আপনি সঠিক। নজরদারি তালিকায়  আপনি দুই বছর থাকতে পারবেন, এরপর তৃতীয় বছরের জন্য সেক্রেটারির ছাড় পেতে হবে।

সারি ২ নজরদারি তালিকায় সঙ্গে কোনো আর্থিক নিষেধাজ্ঞার বিষয় নেই। এখানে কোনো শাস্তির বিষয় নেই। এটি কেবলই পরিস্থিতির মূল্যায়ন। তবে সারি ৩ এর বেলায় নিষেধাজ্ঞা চালু হয়ে যায়। কোনো দেশে মানবিক এবং বাণিজ্যভিত্তিক সহায়তা নয় এমন সব সহায়তার ওপর এতে নিষেধাজ্ঞা চালু হয়। এইসব নিষেধাজ্ঞা দেশগুলোয় সরাসরি দেওয়া অর্থে সীমাবদ্ধ থাকে, দেশের নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে নয়।

এইসব নিষেধাজ্ঞা প্রেসিডেন্ট তুলে নিতে পারেন, এবং প্রথাগতভাবে এই আইন প্রয়োগকারী প্রেসিডেন্টরা উদারভাবে ছাড় দিয়েছেন। এটা বদলে যায় ২০১৮ সালে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইনটিকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং দেশগুলোকে এ বিষয়ে আরো জোরালো পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে ছাড় দেওয়ার পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেন। কাজেই গত দুই বছর ধরে আমরা অনেক কম দেশকে এইসব নিষেধাজ্ঞায় পূর্ণ বা আংশিক ছাড় পেতে দেখেছি।

কাজেই আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী, যে একমাত্র সারির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার বিষয় আছে, সেটি সারি ৩, অর্থাৎ সর্বশেষ সারি। সারি বিষয়ে আপনার প্রশ্নের জবাব কি পেলেন?

প্রশ্ন: আজারবাইজান প্রসঙ্গে আমার আরেকটি প্রশ্ন বাকি আছে: আজারবাইজানের সবচেয়ে জরুরি করনীয় কী আছে, এ বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য আছে? এই দেশ দ্বিতীয় বছরের মতো একই অবস্থানে আছে।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: এক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন, আজারবাইজান সম্পর্কে কিছু তথ্য আমাকে জোগাড় করতে দিন।

প্রশ্ন: অবশ্যই।

সঞ্চালক: আমি সকলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে কোনো ফলো-আপ প্রশ্ন অথবা আরো বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন আপনারা dcfpc@state.gov এই ঠিকানায় ইমেইল করতে পারেন এবং যদি অ্যাম্বাসেডরের আরো সময় প্রয়োজন হয়, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, তার কার্যালয় তথ্য পেয়ে বিশদ জবাব পাঠাবে। ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: এখনকার মতো আমরা অপর কোনো প্রশ্নে যাই?, তাহলে পরে আমরা ঘুরে আবার আসতে পারবো আজারবাইজান প্রশ্নে?

প্রশ্ন: অবশ্যই।

সঞ্চালক: একদম ঠিক। ঠিক আছে। মনে হচ্ছে আমরা একটি প্রশ্ন পেয়েছি – উচ্চারণে ভুল হলে ক্ষমা করবেন – মুশফিকুল ফজলের কাছ থেকে, যিনি আছেন বাংলাদেশের জাস্ট নিউ জ বিডি থেকে। অনুগ্রহ করে আপনার প্রশ্নটি করুন।

প্রশ্ন: অনেক ধন্যবাদ। চমৎকার ব্রিফিংয়ের জন্য ধন্যবাদ অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড, এই দারুণ কাজের জন্যও আপনাকে ধন্যবাদ। আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে চাই। গত বছর বাংলাদেশ সারি ২ এ ছিল এবং আমার বিশ্বাস এখনও সারি ২ তেই আছে।

অথচ মানব পাচারের দিক থেকে দেশটির পরিস্থিতি বিপদজনক পর্যায়ে আছে। আপনি উল্লেখ করেছেন গত মাসের শেষ দিকে লিবিয়ায় ৩৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে, এবং লিবিয়ার মানব পাচারকারীরা অভিবাসীদের একটি দল নিয়ে রওনা হয় – অর্থাৎ লিবিয়ায় ৩৫ বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটে। আমি এ কথা বলছি এ কারণে যে, বাংলাদেশের এক আইনপ্রণেতা – সংসদ সদস্য – তার স্ত্রীও সংসদ সদস্য, শহীদ ইসলাম, কুয়েতে মানব পাচার ও টাকা পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন, ৭ জুন কর্মকর্তারা এটি নিশ্চিত করেছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, টিআইবি ( অস্পষ্ট শব্দ মানব পাচার ও অর্থ পাচারে একজন আইনপ্রণেতার জড়িত থাকার অভিযোগ – বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের প্রতিনিধিত্বে অপকর্মের একটি লজ্জাজনক উদাহরণ।

আমি বোঝাতে চাই, নীতি – একজন সংসদ সদস্য, তারাও মানব পাচারে জড়িত এবং বর্তমান সরকার এই বিষয়ে নির্লিপ্ত । কাজেই আপনি বিশেষ করে বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি কিভাবে বর্ণনা করবেন, অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড?

 

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: খুশি হয়েছি যে আপনি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন, এবং মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশ গত বেশ কয়েক বছর ধরে সারি ২ নজরদারির তালিকায় ছিল। এ বছর বাংলাদেশ সারি ২ এ উঠে এসেছে। বাংলাদেশ একটি জটিল জায়গা, আপনি জানেন, সেখানে পাচারের বিভিন্ন দিক সচল আছে। আমরা যা দেখেছি, সে বিষয়ে কিছু উদ্বেগ আমাদের ছিল

কিছু ইতিবাচক দিক দিয়ে শুরু করা যাক। বেশ কয়েক বছর পর অবশেষে তারা একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে – এমন আদালত যা বিশেষভাবে মানব পাচারের বিষয়ে মনোযোগ দেবে। আমরা মনে করি এটা ইতিবাচক দিক। গত প্রতিবেদন কালের থেকে তারা বেশি সংখ্যক ভূক্তভোগী চিহ্নিত করেছে। এবং আগের বছরের চেয়ে তারা বেশি সংখ্যক পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আমরা মনে করেছি এগুলো এমন কিছু আন্তরিক ও টেকসই প্রচেষ্টা যা অবস্থানের উন্নয়ন দাবি করে।

তবে আমি পরিষ্কার হতে চাই। যদিও তারা দোষী সাব্যস্ত করার সংখ্যা বাড়িয়েছে, তাদের তদন্তের পরিমাণ কমেছে। মানব পাচারের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিপুল তথ্য পাওয়া গেছে। আমার একটি বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো তারা রাজধানীর যৌনপল্লীগুলোতে যৌন কাজে মানব পাচারের তদন্ত করতে খুব একটা সচেষ্ট নয় এবং এগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লীগুলোর অন্যতম। এইসব যৌনপল্লীতে যৌনকাজে মানব পাচার নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সরকারকে তদন্ত বৃদ্ধি করার আহ্বান জানাই। আমরা এমন অনেক অভিযোগ শুনেছি পূর্ণবয়স্কদের, যাদেরকে জোর করে যৌন পাচারে  বাধ্য করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে অল্পবয়সীদের, যাদের ওপর জবরদস্তির প্রশ্নও ওঠে না। যদি কোথাও অপ্রাপ্তবয়স্ক  থেকে থাকে,  আমরা জানি এটা যৌন পাচার।

সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের অনেক নাগরিক জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রদানকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। আমরা সরকারকে এসব ঘটনা তদন্ত করতে বলেছি এবং বলেছি বাংলাদেশ থেকে সেখানে যাওয়া অভিবাসীদের শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়ে থাকতে পারে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভেতরে কিছু লোকের যোগসাজশ আছে কিনা তা তদন্ত করতে দেখতে ।

বাংলাদেশে বিদেশে পাঠানোর খরচ নিয়েও উদ্বেগ আছে এবং আমরা চিন্তিত যে কিভাবে এই খরচ এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে পাচারকারীরা লোকজনের ওপর জবরদস্তি করছে, কিভাবে তারা অবৈধভাবে রিক্রুটারদের সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে।

এছাড়া বিপুল একটি চ্যালেঞ্জ সম্ভবত কক্সবাজার। আমার বাংলাদেশে যাওয়ার এবং কক্সবাজার সফরের সুযোগ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, তারা পাচারের ঝুঁকিতে আছে এবং আমার মনে হয় ওখানে পাচার বিষয়ে আরো অনেক তদন্তের অবকাশ আছে।

কাজেই আমরা বাংলাদেশের ইতিবাচক দিক এবং যে কয়েকটি বিষয়ে দেশটির অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলোর অবশ্যই স্বীকৃতি দেব । সেখানে আমাদের রাষ্ট্রদূত মিলারের এই বিষয়ে নিরন্তর প্রচেষ্টায় আমরা কৃতজ্ঞ, যিনি এই বিষয়ে একজন অগ্রসেনানী এবং সরকারের কাছে নিরন্তর তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কাজেই ভালো কাজ হয়েছে সেখানে, ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু করতে হবে।

সঞ্চালক: ঠিক আছে। ধন্যবাদ। আমাদের পরের প্রশ্ন এসেছে জিম্বাবুয়ের ওপেন পার্লামেন্টের পার্ল মাতিবের কাছ থেকে। পার্ল অনুগ্রহ করে আপনার প্রশ্নটি করুন।

প্রশ্ন: অনেক ধন্যবাদ অ্যাম্বাসেডর। আমি দ্রুত আপনার প্রতিবেদনটি দেখলাম এবং ৬৪ পৃষ্ঠায় আফ্রিকার মানচিত্র দেখতে পেলাম, যা অত্যন্ত চমৎকার দৃশ্যায়ন। তবে আমার দুয়েকটি প্রশ্ন আছে, কেননা ওখানে ক্যাপশনে যে সংখ্যা আপনারা দিয়েছেন, তাতে মনে হয় আপনারা আফ্রিকার সরকারগুলোর উৎসের ওপর নির্ভরশীল, এটা এক নম্বর বিষয়; দ্বিতীয় বিষয় হলো এখানে শুধুমাত্র শ্রম পাচারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কাজেই আপনার কাছে আমার প্রশ্ন – এগুলো, এই সংখ্যাগুলোর ওপর আমরা কতোটা নির্ভর করতে পারি? আমি করি না – আমি নিশ্চিত নই – দেখুন, আমি আপনাদের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না, তবে কোনো কোনো সরকারের দেওয়া তথ্য সর্বদা নির্ভরযোগ্য নয়। তাছাড়া মানচিত্রে কেবল আফ্রিকার নিম্ন-সাহারা অঞ্চল দেখানো হয়েছে, পুরো মহাদেশ নয়। আরেকটি কোনো মানচিত্র কি আছে, পুরো মহাদেশ এবং আফ্রিকার নিম্ন-সাহারা অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য থেকে আপনি কিছু বলতে পারেন কিনা বা কোনো মন্তব্য করবেন কিনা? ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: অবশ্যই। এখানে কয়েকটি যুক্তি আছে। আফ্রিকার মানচিত্রে যেসব দেশ দেখানো হয়েছে, সেটি যে অঞ্চলের, তা স্টেট ডিপার্টমেন্ট তৈরি করেছে আমাদের কর্মকাণ্ড অনুযায়ী নিজেদের সাজিয়ে নেওয়ার সুবিধার খাতিরে। উত্তর আফ্রিকাকে ভিন্ন একটি অঞ্চলের দলভূক্ত করা হয়েছে, যা হলো উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্য। কাজেই এই সবগুলো দেশে একটি আঞ্চলিক টিমের একই গ্রুপের সদস্যরা কাজ করেছে। আমরা তখন উত্তর আফ্রিকার এই দেশগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলো থেকে আলাদা ভাগে ফেলেছি। কাজেই আমাদের আফ্রিকা ব্যুরো এমনসব দেশে মনোনিবেশ করেছে, যেগুলো আপনি দেখতে পাচ্ছেন আপনার উল্লিখিত মানচিত্র দেখানো হয়েছে।

তবে আমি ধন্যবাদ দেই এই চার্টে তুলে ধরা সংখ্যাগুলোর প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। এইসব উপকরণ আমরা সরকারগুলোর কাছ থেকে জোগাড় করেছি। আমরা জানি অনেক সরকার উপাত্ত জোগাড় করতে হিমশিম খায় এবং জানে না তাদের উপাত্তগুলো কী। তারা হয়তো রাজধানী থেকে উপাত্ত সংগ্রহে সমর্থ হয়েছে, তবে প্রত্যন্ত পল্লী এলাকা থেকে তথ্য পায়নি। এমন হতে পারে, কোনো কোনো দেশে এইসব উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য বৈদ্যুতিন ব্যবস্থা আছে; অনেকে এখনও কাগজে কলমে কাজটা করে এবং উপাত্ত পাওয়া কঠিন।

কাজেই আমরা যা পাচ্ছি, তাই তুলে ধরছি। আপনি যাচাইয়ের কথা বললেন। আমি মনে করি এখানে কিছু ব্যবহারিক বিষয় জড়িত। আপনি যদি ওই তালিকার নিচের বাক্যটি পড়েন, দেখবেন আমরা বলার চেষ্টা করেছি, এই সংখ্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কেননা একমাত্র এগুলোই পাওয়া গেছে, কিন্তু আমরা বলার চেষ্টা করছি না যে, এগুলো পুরোপুরি সঠিক। এমন হতে পারে যে, একটি দেশ ভূক্তভোগীদের যে সংখ্যা দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি সংখ্যক ভূক্তভোগী তারা সনাক্ত করতে পেরেছে, কারণ তারা প্রত্যন্ত পল্লী এলাকা অথবা দেশের অন্য অংশ থেকে তথ্য পাচ্ছে না। এমনও হতে পারে, কোনো কোনো সংখ্যায় একটা পর্যায় পর্যন্ত অতিরঞ্জন আছে। সরকার হয়তো অন্য কোনো দিকে সঠিক সংখ্যা দিতে পারবে।

আমি জবরদস্তিমূলক শ্রম বিষয়ে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। তালিকায় যে সংখ্যাটা দেওয়া হয়েছে, এটা হলো সরকারের দেওয়া সেই সংখ্যা, যাদেরকে তারা শ্রম পাচার বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের অপরাধে সনাক্ত করেছে, বিচার করেছে অথবা দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংখ্যাটি একটি বৃহত্তর সংখ্যার অংশ, সেই বৃহত্তর সংখ্যায় সনাক্ত সকল ভূক্তভোগী অন্তর্ভূক্ত থাকবে, কাজেই যৌন পাচার ও শ্রম পাচারের শিকার ব্যক্তিরাও এতে থাকবে।

উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকার ক্ষেত্রে এতে বলা হয়েছে, সরকারগুলো ৪১,৬০৯ জন ভূক্তভোগী সনাক্ত করেছে এবং যার মধ্যে ১,৩১০ জন জবরদস্তিমূলক শ্রমের শিকার। আমাদের এটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার পেছনে কারণ আছে। যথেষ্ঠ সংখ্যক জবরদস্তিমূলক শ্রমের শিকার ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হচ্ছে না এবং তাদের যত্ন নেওয়া হচ্ছে না বলে আমাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ আছে। এক্ষেত্রে সরকারগুলোকে আরো ভালো করতে হবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে শ্রম পাচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আপনি যদি  দেখেন – শুধু আফ্রিকার মানচিত্রের দিকে না, বরং বৈশ্বিক আইন-কানুনের দিকে – বিশ্বজুড়ে আইন-শৃঙ্খলার প্রয়োগের তথ্যের একই রকম একটি তালিকা আছে। আপনি দেখতে পাবেন, এ বছর শ্রম পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সনাক্তের যে মোট সংখ্যা, সেটা আমাদের তালিকা করার শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। কাজেই আমরা মনে করি, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর শ্রম পাচারের ঘটনা নিয়ে কাজ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, এমনকি সেটা এখানে যুক্তরাষ্ট্রেও, যেখানে আমার মনে হয় গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম পাচারের ঘটনা নিয়ে কাজ করার সবচেয়ে বেশি সুপারিশ এসেছে। কাজেই এখানে অনেক কিছু করার অবকাশ আছে বলে আমরাও এখানে যুক্ত হচ্ছি। আশা করছি আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন

প্রশ্ন: জী জী পেয়েছি ধন্যবাদ

সঞ্চালক: ঠিক আছে। আমরা এরপর যাবো কানওয়াল আবিদির কাছে। এরপর আমরা চ্যাট থেকে কিছু প্রশ্ন নেবো। কানওয়াল, আপনার প্রশ্ন করতে যদি আপত্তি না থাকে।

প্রশ্ন: হাই, আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন?

সঞ্চালক: হ্যাঁ।

প্রশ্ন: হ্যালো।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: বলুন।

প্রশ্ন: ঠিক আছে, হাই। এই সংবাদ ব্রিফিং করায় আপনাকে ধন্যবাদ অ্যাম্বাসেডর। আমি পাকিস্তান থেকে এসেছি এবং আমি এজেডবি ডেইলির প্রতিনিধিত্ব করছি। আপনার কাছে আমার দুটি প্রশ্ন। আপনি কি অনুগ্রহ করে বলবেন সার্বিকভাবে পাচার রোধে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট সরকারের নীতিটি কী? এবং আমার দ্বিতীয় আরো বেশি পরিমাণগত। ইরান ও পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে পাচারের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান কি আছে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, কোন বর্গে সেগুলো বেশি পড়ে, যেমন শিশু শ্রম, যৌন পাচার? আপনি কি সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কিছু বলতে পারেন অনুগ্রহ করে? ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: পুরোদস্তুর। আমি এখানে উল্লেখ করবো যে, আজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাকিস্তান সারি ২ থেকে সারি ২ পর্যবেক্ষণ তালিকায় নেমে গেছে। এর কারণ হলো তারা পাচার রোধে সর্বনিম্ন মান পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। তবে এটি করার জন্য তারা তাৎপর্যপূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। পাকিস্তানে সার্বিকভাবে তদন্তের সংখ্যা বেড়েছে, ২৩ থেকে হয়েছে ৭৭ এবং দোষী সাব্যস্ত করার সংখ্যাও বেড়েছে। কাজেই আমরা সেখানে কিছু অগ্রগতি দেখেছি। তবে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন চুক্তিভিত্তিক শ্রমের ক্ষেত্রে সেখানে তেমন অগ্রগতি দেখতে না পেয়ে। সেখানে তারা যতোটা করছে, তার চেয়ে চুক্তিভিত্তিক শ্রমের সংখ্যা অনেক বেশি। তাছাড়া পাকিস্তানে উপাত্ত সংগ্রহেও সমস্যা আছে, সেটা এমন পর্যায়ে যা আপনার জিম্বাবুয়ের সহকর্মীর সঙ্গে আলাপের সময় একটু আগে আমরা যেমনটা বলছিলাম।

পাকিস্তানে বেশিরভাগ সরকারি উপাত্ত এবং তথ্য আসে একটিই প্রদেশ পাঞ্জাব থেকে। অন্যান্য প্রদেশ অনেক কম উপাত্ত ও তথ্য দেয়। কাজেই আমি মনে করি পাকিস্তানে এই ক্ষেত্রে ভালো করার সুযোগ আছে। তারা কিভাবে আমাদের দেওয়ার মতো উপাত্ত সংগ্রহ করবে সেই উপায় বের করতে হবে।

আমরা দেখেছি, সরকার সেখানে প্রথম দোষী সাব্যস্ত করেছে ২০১৮ সালের পাচার আইনের অধীনে। তবে আইন প্রয়োগের সার্বিক প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সরকার কেবল ৯১৬টি যৌন পাচার ঘটনা তন্ত করেছে, আগের বছর যা ছিল ২.৩৬৭টি। কাজেই যৌন পাচারের ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করা সত্ত্বেও এ সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এছাড়া পাকিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশের চ্যালেঞ্জও আছে, যে ব্যাপারে আমরা ক্রমাগত অভিযোগ শুনেছি।

কাজেই আমরা পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চাই। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেই অংশিদারিত্ব তৈরি করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এটিকে অগ্রাধিকারে রেখেছে। আমরা জানি যেখানে আমরা পাচার রোধে মনোনিবেশ করেছি, সেখানে আমরা আইনের শাসনের ওপরও মনোনিবেশ করেছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপারেও আমরা মনোনিবেশ করি। কাজেই এই বিষয়ে কাজ করলে সেটা সার্বিকভাবে সরকারের উপকারে লাগে।

প্রশ্ন: ঠিক আছে। ধন্যবাদ।

সঞ্চালক: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: হেই, আপনি যদি আজারবাইজান বিষয়ে প্রশ্নকারী সাংবাদিকের কাছে ফিরে যেতে পারেন।

প্রশ্ন: ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এখানে আমার কাছে কিছু তথ্য আছে যা আমাদের উপকারে লাগতে পারে। আপনি প্রশ্ন করেছেন, দেশটি কেন পর্যবেক্ষণ তালিকায় আছে। তারা যেসব প্রচেষ্টা চালিয়েছে: তারা আগের চেয়ে বেশি পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, তারা বিচারকদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে, এবং তারা পাচারকারীদের কিছু কঠোর সাজা দিয়েছে। আমি এও উল্লেখ করবো যে, সরকার সুশীল সমাজের জন্য কিছু অনুদান চালু করেছে, এটি ভূক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য সার্বিক তহবিল বৃদ্ধি করেছে এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করি।

তবে, আগের প্রতিবেদনকালের তুলনায় তারা সার্বিক প্রচেষ্টায় প্রবৃদ্ধি দেখাতে পারেনি। এ কারণে তারা সারি ২ পর্যবেক্ষণ তালিকায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো থেকে গেছে। এবং আপনি আগে যেমনটা উল্লেখ করেছেন, পরের বছরটি হবে সর্বশেষ বছর, যাতে ছাড় পেলে তারা সারি ২ পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকতে পারবে।

সরকার আগের চেয়ে কম ভূক্তভোগী সনাক্ত করেছে, তারা নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যাচাই করেনি এবং তারা কার্যকর ভূক্তভোগী সনাক্তকরণ প্রচেষ্টায় তাদের ঘাটতি অব্যাহত ছিল, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ পাচারের ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কাছ থেকে আমরা জানি, পাচারের শিকার বেশিরভাগ ভূক্তভোগী কখনও সীমান্ত পার হয় না। তারা তাদের উৎস দেশেই পাচার হয়। কাজেই আমরা এটাকে শুধুই আন্তঃদেশীয় অপরাধ হিসেবে দেখছি না, সেটা নিশ্চিত করতে হবে, আমরা এটাকে অভ্যন্তরীণ অপরাধ, দেশের ভেতরের অপরাধ হিসেবেও দেখছি। বলতে কি, গত বছরের টিআইপি প্রতিবেদনের এটাই ছিল প্রধান বিষয়। ২০১৯ সালের টিআইপি প্রতিবেদন যদি ডাউনলোড করার সময় আপনি পান, অনেক উপকরণ পাবেন, আমরা কিভাবে বিভিন্ন দেশকে অভ্যন্তরীণ পাচারে মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করি তা বুঝতে সেগুরো আপনার কাজে লাগতে পারে।

প্রশ্ন: ধন্যবাদ।

সঞ্চালক: ঠিক আছে। আপনাদের কারো যদি কোনো প্রশ্ন করার না থাকে, আমি চ্যাট থেকে পাওয়া কয়েকটি প্রশ্নে যেতে চাই। ঠিক আছে, আমরা একটি প্রশ্ন পেয়েছি: “আমার প্রশ্ন খেলোয়াড়দের মানব পাচার বিষয়ে। এ বছরের প্রতিবেদনে খেলোয়াড় নিয়োগ বিষয়ে ফিফার পরিবীক্ষণ সংক্রান্ত একটি কেস স্টাডি আছে। তবে সেটি সংক্ষিপ্ত। এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে খেলাধূলায় মানব পাচারের কোনো সত্যিকার গল্প বা বর্তমান সংখ্যা কি আপনাদের কাছে আছে? এ ধরনের পাচার রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? ধন্যবাদ।

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: আমি খুবই উৎফুল্ল যে শুরুর উপকরণগুলোয় আমরা যেসব বিষয় যুক্ত করতে পেরেছি, সেগুলোর একটি হলো খেলাধূলায় পাচার। আমি মনে করি, যে বিষয়টি মনে রাখার মতো তা হলো খেলোয়াড়দের চশমা হিসেবে ব্যবহার করাটা পাচারের একটি জরুরি দিক। কারণ এতে অনেকে বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করে এই ক্ষেত্রেও পাচারের ঘটনা ঘটে থাকে।

তবে যে শিল্পেই হোক না কেন, কাউকে একটি বারে নাচতে বাধ্য করা হোক অথবা কাউকে কৃষি ক্ষেত্রে শ্রম দিতে বাধ্য করা হোক বা কাউকে জোর করা হোক কেলার মাঠে কোনো খেলা খেলতে, পাচারকারী মানুষকে কোনো না কোনো কর্মকাণ্ডে বাধ্য করছে যা তেকে পাচারকারীর মুনাফা হয়। এটি অর্থনৈতিক প্রণোদনালব্ধ অপরাধ। কাজেই পাচারকারীরা শিখেছে যে, তারা পেশাদারভাবে খেলতে অথবা সুনির্দিষ্ট কোনো শিবিরে প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়োগ করতে পারে, তারা তাদেরকে প্রলুব্ধ করে এবং তারা এমনভাবে তা করে যাতে এ অভিজ্ঞতা থেকে তারা মুনাফা করতে পারে- এ থেকে খেলোয়াড়রা একটি দলে থাকার বিরাট খেলোয়াড়সুলভ অভিজ্ঞতা পায় না, তারা পাচারকারীর লাভের জন্য অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়।

কাজেই এটিকে তুলে ধরার পেছনে আমরা কিছু সময় ব্যয় করেছি। আমি মনে করি আপনারা পরিসংখ্যানের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু দেখতে পাবেন, এটি পুরো পাচারবিরোধী আন্দোলনের একটি দুর্বল ক্ষেত্র। কাজেই এ ক্ষেত্রেও অগ্রগতির অবকাশ আছে। আমার মনে হয় এই ক্ষেত্রে সংখ্যাটি হলো ১৫,০০০ সম্ভাব্য ভূক্তভোগী। তবে অগ্রগতির একটি ক্ষেত্র হলো আমরা কিভাবে উদঘাটন করবো, কিভাবে পরিমাপ করবো, একটি প্রদত্ত স্থানে আমরা কিভাবে সমস্যাটির প্রকটতা সনাক্ত করবো? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি বিরাট গবেষণা উদ্যোগ নিয়েছে – প্রিভ্যালেন্স রিডাকশন ইনোভেটিভ ফোরাম, যেখানে তারা বিভিন্ন পদ্ধতি উদঘাটন করতে এবং সমস্যাটির বিস্তৃতি পরিমাপ করতে বিশ্বের সেরা গবেষকদের ব্যবহার করছে।

কাজেই বহু বছর ধরে লোকে প্রশ্ন করেছে, কোনো সুনির্দিষ্ট দেশে মানব পাচারের শিকার মোট ব্যক্তির সংখ্যা কতো? যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলো অনেক দুর্বল। আমরা এমন সংখ্যা পেয়েছি, যেগুলো সমস্যাজনক। কারণ কৃষি খাতে জবরদস্তিমূলক শ্রম দিতে বাধ্য হওয়া যেসব বয়স্ক লোককে জিজ্ঞেস করতে আপনি যে জরিপ উপকরণ ব্যবহার করবেন, তা বাণিজ্যিক যৌনকাজে বিক্রি হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকদের জিজ্ঞাসার জন্য ব্যবহার করা জরিপ উপকরণের চেয়ে অনেক আলাদা। ভিন্ন পাচারকারী, ভিন্ন শিল্প, ভিন্ন এলাকা।

কাজেই আমরা বেশ কিছু প্রাদুর্ভাব গবেষণায় অর্থায়ন করছি, যেগুলো সুনির্দিষ্ট শিল্পভিত্তিক এবং ভৌগলিকভাবে নির্দিষ্ট। কাজেই কেনিয়ায় ভূক্তভোগী কতো, এই প্রশ্নের বদলে প্রশ্ন হবে: রাজধানী নাইরোবিতে কতোজন গৃহকর্মী বাধ্যতামূলক শ্রম দিচ্ছে? এটি এমন একটি সংখ্যা যা আপনি পেতে পারেন, এবং তখন আপনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন, এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণের চেষ্টা করে দেখতে পারেন আপনি পুনরায় পরিমাপ করতে পারছেন সংখ্যাটি কমলো কমলো কিনা এবং বুঝতে পারেন: আমরা কি সমস্যার প্রাদুর্ভাব সংক্রান্ত প্রচেষ্টার বরাতে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি?

কাজেই আমি খেলোয়াড়দের ঘিরে প্রাদুর্ভাবের এ প্রশ্ন এবং সেই সঙ্গে অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রাদুর্ভাবের প্রশ্নকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

সঞ্চালক: ঠিক আছে। অনেক ধন্যবাদ অ্যাম্বাসেডর। চ্যাটে কোনো প্রশ্ন না থাকলে আমরা আরেকটি প্রশ্ন নেবো। মনে রাখবেন, আপনারা সর্বদা আপনাদের হাত তুলতে পারবেন। আমরা চ্যাটে পাওয়া আরেক একটি প্রশ্ন নেবো: “করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনেক দেশ তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে এবং অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, যেমন আশ্রয় প্রার্থনা, ভিসা ইত্যাদি। আইনসিদ্ধ অভিবাসনের এইসব পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আপনি কি গত কয়েক মাসে মানব পাচার বৃদ্ধি পেতে দেখেছেন?

অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড: এটি বিরাট এক প্রশ্ন, যার ভাববার পেছনে বেশ কিছু সময় ব্যয় করা যায়। মানব পাচারে কোভিডের প্রভাবের প্রশ্নটি প্রক্রিয়াজাত করতে আমি কিভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি, সেটা বলতে আপনাদের ভালোই লাগবে। কী ঘটছে সে ব্যাপারে আপনাদের সকলের নিজস্ব কিছু ভাবনা থাকতে পারে, কারণ আমরা ঘটমান সময়ে সকলে এটির অভিজ্ঞতা লাভ করছি। আমরা বর্তমান মুহূর্তে বসবাস করছি এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি।

আমি কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করবো। প্রথমত: পাচার বন্ধ হয়ে যায়নি। তারা এই মুহূর্তের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিচ্ছে এবং তারা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহষ অব্যাহত রেখেছে। আরেকটা বিষয় আমরা জেনে নিতে পারি, তা হলো, এই মহামারি ঝুঁকিপূর্ণ লোককে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, উভয়ক্ষেত্রে সম্ভবত রোগবালাইয়ের কারণে – কারণ তাদের মধ্যে ভাইরাসটি আছে- তবে শাটডাউন ও গৃহাভ্যন্তরে থাকার আদেশের কারণেও। আমরা এমন উদ্বেগজনক কথাও শুনেছি যে, ভূক্তভোগীরা তাদের পাচারকারীদের সঙ্গে কোয়ারেনটাইনে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এটা আরো সমস্যাজনক, যখন পাচারকারীরা পরিবারের সদস্য, অথবা কেউ এমন বাড়িতে আটকা পড়েছে, যেখানে তাদের পিতামাতা, অথবা মামা-চাচা অথবা খালা-চাচিরা তাদের পাচার করছেন। এখন তাদের বেরিয়ে আসার সুযোগ আরও কম।

কাজেই কোভিড কিভাবে ভূক্তভোগীদের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং তাদের সংকট আরো জটিল করে তুলছে, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা জানি, তারা যদি পাচারকারীদের কবল থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে না পারে, তারা ভাইরাসের হাত থেকেও নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবে না।

আমি এও বলবো যে, যারা রক্ষা পেয়েছে, যারা এখন আর পাচার হচ্ছে না, তাদের ওপরও কোভিডের প্রভাব পড়ছে। কারণ বিভিন্ন সেবায় তাদের অভিগম্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, সেবা অথবা চিকিৎসা প্রাপ্তি বা কোনো সহায়তা দল বা কাউন্সেলিং পাওয়ার সুযোগ তাদের কমে গেছে। সামাজিকভাবে দূরত্ব বজায় রাখার প্রেক্ষাপটে এটি আরো কঠিন হয়ে গেছে।

আমি পাচারের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে শুনেছি, তারা ব্যবসা বন্ধের সরকারি আদেশের কারণে নিজেদের কোনো অপরাধ ছাড়াই চাকরি হারিয়ে ফেলেছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হারিয়ে ফেলার কারণে তারা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে এবং তারা উদ্বিগ্ন যে পাচারকারীরা ভবিষ্যতে আবার তাদের শিকারে পরিণত করবে।

আমরা আরও উদ্বেগজনক ছক লক্ষ্য করছি, যেখানে পাচারকারীরা তাদের অপরাধ সমাধার জন্য আরো বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে , বলা যায়, সাইবার সেক্স পাচার বাড়ছে। শিশুদের অপব্যবহারমূলক, অযথাযথ ছবি বিক্রি হয়েছে এবং স্ট্রিম করা হয়েছে এবং আমরা দেখছি সরকারগুলো এগুলোর আরো বেশি বেশি প্রমাণ পাচ্ছে।

আমি আপনাদের বলতে চাই, পাচারকারীরা যদিও তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করছে না, কিন্তু এটাই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময় যখন শুভ বুদ্ধির লোকেদের উচিৎ ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করা। এবং সরকারগুলোর বিশেষ দায়িত্ব আছে তাদের কাগুজে শব্দগুলোকে, তাদের প্রণয়ন করা আইন-কানুনগুলোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য আইনের বাস্তবায়ন করা। সেই দায়িত্ব বাতিল হয়ে যায়নি। সেই দায়িত্ব করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যেও অব্যাহত আছে – আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন পাচার রোধ করা অব্যাহতভাবে অগ্রাধিকার থাকে।

আমি শুধু বলবো, টিআইপি প্রতিবেদন যেহেতু এই মহামারির মধ্যেও যথাসময়ে প্রকাশিত হয়েছে, সকলে যখন টেলিওয়ার্কিং করছে, এটাই প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টিকে কতোটা অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সারা বিশ্বে আমাদের যেসব সহকর্মী এটিকে একটি অগ্রাধিকার হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টারত, আমরা তাদের সকলের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছি।

সঞ্চালক: ঠিক আছে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ অ্যাম্বাসেডর রিচমন্ড। এখানে আসা এবং আমাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা, আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্য থেকে সময় বের করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি আমাদের সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ দেবো তারা এ বিষয়টি জানতে যে সময় দিয়েছেন এবং যেসব দারুণ প্রশ্ন করেছেন, সেজন্য।

সেই সঙ্গে আমরা এই ব্রিফিংয়ের সমাপ্তি টানবো। আপনাদের যদি আরো কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে, আপনারা dcfpc@state.govঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। এই ব্রিফিংয়ের একটি ট্রান্সস্ক্রিপ্ট আশা করি যতোটা দ্রুত সম্ভব তৈরি হয়ে যাবে, হয় আজ রাতেই অথবা আগামীকাল সকালের মধ্যে, এবং ভিডিও ট্রান্সস্ক্রিপ্ট আমাদের ওয়েবসাইট fpc.state.gov এ পোস্ট করা হবে। যারা একটি একক সাক্ষাৎকারের জন্য অনুরোধ করেছেন, তারা যুক্ত থাকবেন, বাকি সকলে বৈঠক ত্যাগ করতে পারেন। আমার মনে হয় আমরা তিনজনের জন্য সময় বের করতে পেরেছি: সেলিম, নাইক এবং পার্ল। একক ব্রিফিংয়ের জন্য অনুগ্রহ করে যুক্ত থাকুন। বাকি সকলে অনুগ্রহ করে বৈঠকে ইতি টানুন। ধন্যবাদ।

উৎস: https://www.state.gov/briefings-foreign-press-centers/release-of-the-20th-annual-trafficking-in-persons-report/