আমেরিকান মুসলমানরা বাসায় থেকে রমজান পালন করছেন

"যদিও মনে হয় আমরা সামাজিকভাবে একে অপরের থেকে দূরে রয়েছি, আমরা সৃষ্টিকর্তার আরো নিকটবর্তী হয়েছি।" সালমান আযম, ইলিনয় । (ছবি: সালমান আযমের সৌজন্যে। গ্রাফিক: স্টেট ডিপার্টমেন্ট/এস. জেমেনি উইলকিনসন)

শেয়ারআমেরিকা – ১৪ মে, ২০২০

নতুন করোনভাইরাস মহামারীর কারণে, আমেরিকার ৪০টি মুসলিম সংগঠনের একটি জোট এই বছরের রমজান পালন — রোজা রাখা, প্রার্থনা করা ও দান করা — ঘরে থেকেই করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।

নিরাপত্তা সবার আগে, বলছিলেন শিকাগোর ডাউনটাউন ইসলামিক সেন্টারের বোর্ড সদস্য সালমান আযম, “তবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা মানে কিন্তু সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়।”

তাঁর এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন জর্জিয়ার ক্লেটন স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রশাসক শাকের আবদুল্লাহ। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তানের সাথে আগের রমজান মাসের চেয়ে এবার একসঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারছেন। তিনি বলেন, “আমরা পরিবারের সবাই মিলে একটি বাগান তৈরির কাজ শুরু করেছি, এবং সেই বাগান আমরা সবাই মিলেই পরিচর্যা করি,” তিনি এখন কুরআন পড়তে ও এর বিষয়বস্তু অনুধাবনে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় দিতে পারছেন।

(ছবি: শাকের আবদুল্লাহ-র সৌজন্যে। গ্রাফিক: স্টেট ডিপার্টমেন্ট/এস. জেমেনি উইলকিনসন)

আযম বলছিলেন যে, শিকাগো সেন্টারের সদস্যরা আগের মতো জমায়েত না হয়ে পৃথক থাকলেও, তারা “বিশেষ ও অন্যরকম এই কোভিড রমজানের ফল হিসেবে” ইতিবাচক কিছু না কিছু খুঁজে পেয়েছেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের বাড়িতে নামাজ পড়ার জন্য একটি জায়গা আলাদা করেছেন। “আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়েছি,” আযম বলেন।

কানেকটিকাটের পুষ্টিবিদ সারাহ ফরিদ চৌধুরী এবং তাঁর স্বামী তাঁদের দুটি ছোট সন্তানের জন্য রমজানকে অর্থবহ করতে চান। “আমাদের একটি খেলার তাবু আছে, সেটাকে আমরা আমাদের বসার ঘরে এনে বাচ্চাদের জন্য অস্থায়ী মসজিদ তৈরি করে দিয়েছি,” বলছিলেন সারাহ ফরিদ চৌধুরী। “আমরা তাদেরকে বই পড়ে শুনাচ্ছি এবং ইসলাম ও রমজান সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছি।”

“এই সময়কে কাজে লাগানোর সেরা উপায়টি আমরা খুঁজে বের করেছি এবং আমাদের সন্তানদের একটি অন্যরকম রমজান পালনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে।” – সারাহ ফরিদ চৌধুরী, কানেকটিকাট। (ছবি: সারাহ ফরিদ চৌধুরীর সৌজন্যে। গ্রাফিক: স্টেট ডিপার্টমেন্ট/এস. জেমেনি উইলকিনসন)

সারাহ-র পরিবার এখন একসাথে সেহরি খায়, বাচ্চাদের স্কুলের সময়সূচির কারণে আগে তাঁরা একসাথে খেতে পারতেন না। (মহামারীর কারণে বাচ্চাদের স্কুল এখন বন্ধ।) কোন কোন দিন সারাহ রাত সাড়ে তিনটায় সেহরিতে খাওয়ার জন্য ওয়াফলস তৈরি করেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের একটি অন্যরকম রমজান পালনের সুযোগ করে দিয়েছি।”

ফারান সাঈদ সম্প্রতি পিএইচডি শুরু করার জন্য দেশের আরেকপ্রান্ত থেকে অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়তে এসেছেন। নতুন এই শহরে নিজের বান্ধবী ছাড়া আর কাউকে চেনেন না। তারা দু’জন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাকি বন্ধুদের সাথে মিলে ইফতারের জন্য একই ধরনের খাবার তৈরি করছেন। “ধর্ম পালনের মাধ্যমে এখনো আমি মনে শান্তি পাই” সাঈদ বলেন।

“এর অন্তর্নিহিত একটি আশীর্বাদ হলো এই যে এটি (মহামারী) আমাদেরকে দেশব্যাপী বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।” – মোহাননাদ আল-সামারাই, মিসৌরি।(ছবি: মোহাননাদ আল-সামারাইয়ের সৌজন্যে। গ্রাফিক: স্টেট ডিপার্টমেন্ট/এস. জেমেনি উইলকিনসন)

মিসৌরির কলম্বিয়ার বাসিন্দা চক্ষু রোগের চিকিত্‌সক মোহাননাদ আল-সামারাই এবং তাঁর পরিবার তাঁদের এলাকার মসজিদ থেকে অনলাইন প্রচারিত ইসলাম সংক্রান্ত বক্তৃতাগুলো এই রমজানে উপভোগ করছেন, যেখানে সারা দেশের বক্তারা উপস্থিত থাকেন। তিনি বলেন, “এর অন্তর্নিহিত একটি আশীর্বাদ হলো এই যে এটি (মহামারী) আমাদেরকে দেশব্যাপী বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।”

ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জিনা রাওফ বলেন যে, সাধারণত বছরের এই সময়ে তাঁর কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকে। তবে এই রমজানে, তারা একসাথে (বাড়িতেই) রান্না করছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করার সময় পাচ্ছি, এবং আমরা নতুন নতুন খাবার এবং রেসিপি খুঁজে পাচ্ছি।”

আমেরিকান মুসলমানরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সত্বেও যাকাত, কিংবা দাতব্য দান, চালিয়ে যাচ্ছে।  মুসলিমস এগেইনস্ট হাঙ্গার এবং হাঙ্গার ভ্যান, এর প্রতিষ্ঠাতা জমির হাসান ফ্লোরিডার কিসিম্মিতে প্রবীণ প্রতিবেশীদের মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি খাবার বিতরণ করেছেন। তিনি মুখে মাস্ক পড়ে গলফ কার্ট চালিয়ে রান্না করা খিচুড়ি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন।

হাসান বলেন, রমজানের এই সময়ে (২৩ মে রমজান শেষ হবে) “খাবার রান্না করে আপনার প্রতিবেশীকে দিন। কিংবা আপনি যখন নিজের জন্য মুদিসামগ্রী কিনতে যান তখন প্রতিবেশীর জন্যও কিছু কিনুন।”

তিনি বলেন, করোনভাইরাস মহামারী “আমাদেরকে আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী করেছে।”

ফ্রিল্যান্সার লিন্ডা ওয়াং এই নিবন্ধটি লিখেছেন