কোভিড-১৯ বিষয়ক নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা

অণুজীব-বিজ্ঞানী মলি ফ্রিম্যান আটলান্টায় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর গবেষণাগারে খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ে গবেষণাকালে একটি শিশি থেকে ব্যাকটেরিয়া নিচ্ছেন।(© ডেভিড গোল্ডম্যান/এপি ইমেজেস)
শেয়ার আমেরিকা
লরেন মনসেন – মে, ২০২০

 

আমেরিকানরা যখন কোভিড-১৯ বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত খোঁজেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে সেই তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়।

রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে, রোগের ধরনে আসা পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়।

এছাড়াও সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিদেশী সহকর্মীদের সাথে মিলে সংক্রমণের নতুন কেসগুলো অনুসন্ধান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।

ব্রাজিলের প্রাইবা রাজ্যের রাজধানী জোয়াও পেসোয়া-য় ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা জিকা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মা ও তাদের সন্তানদের খুঁজছেন। (© আন্দ্রে পেনার /এপি ইমেজস)

“নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা সিডিসির কাজের ভিত্তি,” কথাগুলো বলেছেন নিউ ইয়র্কের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সংক্রামক রোগ ও মহামারী বিশেষজ্ঞ ডক্টর শৌনা জোরিখ।

তিনি আরো বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয় “সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যভাবে সংগৃহীত সর্বোচ্চ মানের বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে”। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে সিডিসি-র কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও উম্মুক্ত পদ্ধতি এর বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য।

স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত ভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির কাজটি শুরু করেছিল ন্যাশনাল নোটিফিবেল ডিজিজ সার্ভিল্যান্স সিস্টেম (এনএনডিএসএস), যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রায় ১২০টি রোগ পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী “অবশ্যজ্ঞাপনীয় রোগ” হলো এমন একটি বিষয় যা ধরা পড়া বা নির্ণীত হওয়ামাত্র সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কলেরা, টাইফয়েড জ্বর এবং ম্যালেরিয়া এবং করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত অসুস্থতা যেমন সার্স, মার্স ও কোভিড-১৯

সার্ভিল্যান্স-সিস্টেমের কর্মীরা এই ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সকল রাজ্য ও অঞ্চল এবং দেশের রাজধানীতে কাজ করেন।

করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়াচ্ছে তা জানা ও বোঝার জন্য সিডিসি-র কর্মীরা আটলান্টার শহরতলীতে ঘরে ঘরে গিয়ে রক্তের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করছে। (সিডিসি)

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবাদানকারী, পরীক্ষাগারগুলো, হাসপাতালগুলো এবং অন্যান্য অংশীদাররা মিলে প্রতি বছর আনুমানিক ২৭ লাখ রোগের ঘটনা জানায়।

এই বাধ্যতামূলক প্রতিবেদনগুলো থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান গবেষকদের রোগের প্রাদুর্ভাব বুঝতে, গতিবিধি শনাক্ত করতে এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য সঙ্কটগুলো সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করে।

স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে জনসাধারণকে পরামর্শ দেয়া

সিডিসি চিকিত্‌সকদের দেয়া রোগ নির্ণয় প্রতিবেদন, ঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য, পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত নিশ্চিত ফলাফল এবং রোগীর জনমিতি সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে রোগ-নিরসন কৌশলগুলো নির্ধারণ করে।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত একটি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও জনগণের জন্য উম্মুক্ত। এছাড়াও সিডিসি-র টুইটার একাউন্ট  এবং ফেসবুক একাউন্টে সহজ ভাষায় প্রতিদিনকার আপডেটগুলো জানানো হয়।

“জনস্বাস্থ্যের একজন অধ্যাপক হিসেবে, আমার একটি কাজ হলো একথা নিশ্চিত করা যে জনস্বাস্থ্যের সঠিক তথ্য মূল্যায়নের জন্য কোন উত্‌সগুলোর তথ্য ব্যবহার করতে হবে তা আমার শিক্ষার্থীরা জানবে,” বলেছিলেন জোরিখ। “সিডিসি সবসময় তথ্য সংগ্রহের উত্‌সের তালিকার শীর্ষে আছে।”

জনস্বাস্থ্যের তথ্যের জন্য অন্যান্য বিশ্বস্ত উত্‌সগুলোর মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান মেডিকেল সেন্টারগুলো, যেমন মিনেসোটার মেয়ো ক্লিনিক, ওহিও-র ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক এবং মেরিল্যান্ডের জনস হপকিন্স হেলথ সিস্টেম

ভবিষ্যতের কথা জানাতে পিছনে তাকানো

গবেষকরা বিগত মহামারীর পাশাপাশি বর্তমান মহামারী থেকেও শিখতে পারেন।
কোনও একটি অবশ্যজ্ঞাপনীয় রোগের বিস্তার শেষ হওয়ার পর, সিডিসি সংশোধিত তথ্য-উপাত্তসহ একটি মহামারী-পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।  উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) রোগ কমার পরে সিডিসি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে একটি আপডেট প্রকাশ করেছিল। সেই আপডেটে জানানো হয়েছিল যে, বিশ্বে প্রায় ১,০০০ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগীর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল (যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন রয়েছে) এবং যাদের বেশিরভাগ ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে আরো জানানো হয়েছিল যে, “এরপর আর কোনও রোগী পাওয়া যায়নি, যদিও যুক্তরাষ্ট্রে দেশব্যাপী সার্ভিল্যান্স এবং আজ পর্যন্ত ৪৫টি রাজ্যের ৫১৪ জন রোগীকে পরীক্ষা করা হয়েছে।”