Flag

An official website of the United States government

বাংলাদেশ ২০২১ মানবাধিকার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ
দ্বারা
1 পড়ার সময়
এপ্রিল 13, 2022

বাংলাদেশের সংবিধানে থাকা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একীভূত করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো পাঁচ-বছর মেয়াদে জয়লাভ করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল আছেন। এই নির্বাচনে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা এবং বিরোধী পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোসহ অনিয়মের কারণে পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে বিবেচনা করেননি।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী জাতীয় পুলিশ বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট যেমন র‍্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন নিয়ে গঠিত যারা অভ্যন্তরীণও সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রাখে। সামরিক বাহিনী, মূলত সেনাবাহিনী, দেশের প্রতিরক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া সত্বেও তারা কিছু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর উপর বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অনেকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

মানবাধিকারের উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ বেআইনিভাবে কিংবা নির্বিচারে হত্যা; জোরপূর্বক অন্তর্ধান বা গুম; সরকার কিংবা সরকারের পক্ষে তাদের এজেন্টদের দ্বারা নির্যাতন কিংবা নিষ্ঠুর, অমানবিক কিংবা অবমাননাকর আচরণ কিংবা শাস্তি প্রদান; কারাগারের নিষ্ঠুর ও জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ দুরাবস্থা; নির্বিচারে গ্রেফতার কিংবা আটক রাখা; রাজনৈতিক বন্দী; অন্য দেশে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ব্যক্তি নির্যাতন; স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা; গোপনীয়তার উপর নির্বিচারে কিংবা বেআইনীভাবে হস্তক্ষেপ; ব্যক্তির অপরাধের জন্য পরিবারের সদস্যদের শাস্তি দেয়া; সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা হুমকি দেয়া, তাদেরকে অন্যায্যভাবে গ্রেফতার করা কিংবা সাংবাদিকদের বিচার করাসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের উপর গুরুতর বিধিনিষেধ; সেন্সরশিপ এবং অপরাধমূলক মানহানি ও অপবাদ আইনের অস্তিত্ব; স্বাধীনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর গুরুতর বিধিনিষেধ; শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ আয়োজন ও সমবেত হওয়ার স্বাধীনতার উপর গুরুতর হস্তক্ষেপ, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সংগঠনসমূহের সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা, তহবিল গঠন কিংবা পরিচালনার উপর অত্যধিক বিধিনিষেধমূলক আইন; শরনার্থীদের চলাফেরার স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ; শরনার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার; রাজনৈতিক অংশগ্রহণ/কর্মকান্ডের উপর মারাত্মক ও অযৌক্তিক বিধিনিষেধ; গুরুতর সরকারি দুর্নীতি; অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা হয়রানি; লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার ক্ষেত্রে তদন্তের ও জবাবদিহিতার অভাব, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গী কর্তৃক সহিংসতা, যৌন সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে এবং অন্যান্য ক্ষতিকর চর্চাসমূহ; সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্য কিংবা আদিবাসী জনগণকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটন করে যেখানে সহিংসতা কিংবা সহিংসতার হুমকির মতো বিষয়গুলো জড়িত রয়েছে; নারী-সমকামী, পুরুষ-সমকামী, উভকামী, হিজড়া রূপান্তরকামী, কুইয়্যার, কিংবা উভলিঙ্গ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কিংবা সহিংসতার হুমকি সংশ্লিষ্ট অপরাধ; সম্মতির ভিত্তিতে সম-লিঙ্গের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যৌন আচরণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এমন আইনের অস্তিত্ব বা ব্যবহার; স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে সমবেত হওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ; এবং নিম্ন-ধরনের শিশু শ্রমের অস্তিত্ব।

নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে ব্যাপক দায়মুক্তির কথা জানা যায়। সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।