কোভিড মোকাবিলা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের জন্য সেক্রেটারি অ্যান্টনি জে. ব্লিনকেনের বক্তব্য

অ্যান্টনি জে. ব্লিনকেন, সেক্রেটারি অব স্টেট
ওয়াশিংটন ডিসি
বেন ফ্রাঙ্কলিন রুম

 

সেক্রেটারি ব্লিনকেন: শুভ অপরাহ্ণ।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোভিড-১৯ এ মৃত্যু রেকর্ডের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি আমেরিকান মহামারিতে প্রাণ হারিয়েছেন। ৩০ মিলিয়নের বেশি আমেরিকান সংক্রমিত হয়েছেন। আরও লাখো আমেরিকান তাদের স্বজন হারিয়েছেন, অনেকে বিদায় বলারও সুযোগ পাননি।

এই ভাইরাস থেকে কেউই নিরাপদ ছিলেন না। বিশেষ করে, এটি (পিপল অব কালার) ভিন্নবর্ণের মানুষদের আঘাত করেছে আরও কঠিনভাবে, বিধ্বস্ত করেছে কমিউনিটিগুলোকে এবং আমাদের দেশে জাতিগত ও অর্থনৈতিক বিভক্তিকে আরও গভীর করে তুলেছে।

স্বাস্থ্যের ওপর এবং মৃত্যুর সংখ্যায় কোভিড-১৯ এর প্রভাব যতটা ব্যাপক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে তা কোনো অংশে কম নয়। বন্ধ হয়ে গেছে রেস্তোরাঁ, পানশালা, মুভি থিয়েটার; অনেকগুলোই স্থায়ীভাবে। স্কুলে না যেতে পেরে বাড়িতেই ছিল লাখ লাখ শিশু, তারা শ্রেণিকক্ষের বহুমূল্য সময় হারিয়েছে। আর লাখ লাখ নারী তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে ঝরে পড়েছেন শিশু এবং বৃদ্ধ পিতা-মাতার যত্ন নিতে গিয়ে।

এসব কারণে কোভিড-১৯ থামানো বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের এক নম্বর অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নয়তো করোনাভাইরাস আমাদের কমিউনিটিগুলোতে ছড়াতে থাকবে, আমাদের জীবন ও জীবিকা পড়বে হুমকিতে, পেছনে টেনে ধরবে আমাদের অর্থনীতিকে। আমেরিকার জনগণের জন্য তাদের প্রাপ্য উন্নততর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা তো দূর, আমরা পুরোপুরি সেরেই উঠতে পারব না, যত দিন না মহামারি শেষ হচ্ছে।

প্রথম দিন থেকে প্রশাসন সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে যত দ্রুত এবং যত বেশি সম্ভব আমেরিকানকে টিকা প্রদানের। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ১০০ দিনে ১০০ মিলিয়ন শট (টিকা) দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন।  সেই লক্ষ্য আমরা ৫৮ দিনেই অর্জন করেছি। আমরা এখন ১০০ দিনে ২০০ মিলিয়ন শটের নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা দ্রুততার সঙ্গে দেশজুড়ে নতুন ভ্যাকসিনেশন সাইট চালু করতে যাচ্ছি, যেন ১৯ এপ্রিলের মধ্যে ৯০ শতাংশ আমেরিকান এমন একেকটি সাইটের পাঁচ মাইলের মধ্যে থাকেন।

গোটা সময়জুড়ে, আমরা দ্রুততার সঙ্গে টিকাও তৈরি করে যাচ্ছি। মে মাসের শেষ নাগাদ প্রাপ্তবয়স্ক সব আমেরিকানের জন্য পর্যাপ্ত টিকা আমাদের হাতে থাকবে। এবং এখন পর্যন্ত টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা অত্যন্ত আশ্বস্ত হওয়ার মতো।

নিজ গৃহে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের যে শক্তিশালী অগ্রগতি, তা নিয়ে আমেরিকার জনগণ আশা ও গর্ব করতে পারেন। এই কৃতিত্ব আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের, আমাদের বিজ্ঞানীদের, আমাদের সরকারের।

তবু, আমরা এখনো দৌড়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছাইনি। আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করারও কোনো অবকাশ নেই। আমেরিকানদের জন্য এখন সময়টা মাস্ক পরার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার – এবং পালা আসামাত্রই টিকা নিয়ে নেওয়ার। এই কাজগুলো করতে হবে আপনার নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, প্রতিবেশীদের জন্য এবং সেই সব মানুষের জন্য, যাদের সঙ্গে হয়তো আপনার কখনোই দেখা হবে না, কিন্তু আপনার কাজের মাধ্যমে যাদের জীবন বাঁচবে।

কোভিড থামানোর আরেকটি বড় উপাদান আছে, আর তা নিয়েই আজ এখানে আমরা কথা বলতে এসেছি।

আমাদের দেশে এই মহামারি শেষ হবে না, যত দিন না এটা বিশ্বে শেষ হচ্ছে।

এবং আমি এই বিষয় নিয়ে এক মিনিট ব্যয় করতে চাই; কারণ, এটা বোঝা জরুরি। আমরা যদি আগামীকালের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩২ মিলিয়ন মানুষকে টিকা দিই, তবু এই ভাইরাস থেকে পুরোপুরি নিরাপদ হবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত গোটা বিশ্বে তার রূপ বদলানো এবং নতুন ধরনে পরিবর্তিত হওয়া অব্যাহত থাকছে, যা সহজে এখানেও চলে আসতে পারে এবং আমাদের কমিউনিটিজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এবং যদি না আবার অর্থনীতিকে পুরোপুরি খুলে দিতে চাই এবং ভ্রমণ শুরু করে দিই। তার সঙ্গে, যদি অন্য দেশগুলোর অর্থনীতি কোভিড সংক্রমণের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, সেটি আমাদের পুনরুদ্ধারকেও আঘাত করবে।

সবখানে কোভিড মহামারির ইতি টানতে চাইলে বিশ্বকে একজোট হতে হবে। এবং সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্যোগ নিতে এবং নেতৃত্ব দিতে হবে।

কার্যকর টিকা তৈরি করা এবং সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একত্র করে মহামারিকে পুরোপুরি নির্মূল করার জন্য বিশাল, টেকসই জনস্বাস্থ্য প্রচেষ্টা সংগঠিত করা – উভয় ক্ষেত্রেই আমরা যা করতে পারি, তা করার মতো আর কোনো দেশ এই পৃথিবীতে নেই। এটি হবে একটি অভূতপূর্ব বৈশ্বিক কর্মযজ্ঞ, যেখানে থাকবে রসদ সরবরাহ, অর্থায়ন, সরবরাহ চেইন পরিচালনা, উৎপাদন এবং সেইসব কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, যারা প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করেন। এই সবকিছুর জন্য নিবিড় কূটনীতিও দরকার হবে।

বিশ্ব আগে কখনোই এমন কিছু করেনি। এটি এমন একটি মুহূর্ত, যা আমেরিকার নেতৃত্ব দাবি করে।

এখন, এবং এত দিন পর্যন্ত বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের প্রধান ফোকাস ছিল আমেরিকানদের টিকা দেওয়া; যাতে নিজভূমে কোভিডের গতি কমিয়ে আনা এবং শেষ পর্যন্ত থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে আমরা যারা আছি, বিশ্বব্যাপী আমাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে থাকা কর্মী বাহিনীকে টিকা দেওয়ার বিষয়টিতে মনোনিবেশ করেছি। এটাই সঠিক ছিল। আমরা প্রথম এবং সর্বাগ্রে আমেরিকার জনগণের সেবা করি। সেই সঙ্গে আমরা এ-ও ভুলতে পারি না যে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণের ঘটনা সর্বাধিক এবং তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বেশি। সুতরাং, এখানে ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা আমাদের জনগণ এবং গোটা বিশ্বের জন্য জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনাও, অন্য দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তবে শিগগিরই কাজ আরও ত্বরান্বিত করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে এবং বিশ্বজুড়ে এই বিশেষ সময়ের প্রয়োজন মেটাতে আরও উদ্যোগী হতে হবে। কারণ আবার বলছি, বৈশ্বিকভাবে কোভিডকে থামানো গেলেই কেবল আমেরিকানরা দীর্ঘ মেয়াদে নিরাপদ থাকবে।

তা ছাড়া, আমরাও চাই বিশ্বের জন্য এই বিশেষ সময়ের প্রয়োজনে উদ্যোগী হতে। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারির অবসান ঘটানোয় সাহায্য করার মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বকে আবার দেখাতে পারব, আমেরিকার নেতৃত্ব এবং আমেরিকার উদ্ভাবনশীলতা কী করতে পারে। কোভিড-১৯ অবসানের গল্পটা, এমনই হোক।

আমরা এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রশাসনে আসার প্রথম দিনেই, আমরা আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দিয়েছি। টেবিলে উপস্থিত থেকে আমরা সংস্কারের জন্য চাপ দিতে পারি, যাতে আমরা পরবর্তী জৈব হুমকিতে দ্রুত সাড়া দিতে পারি এবং তা প্রতিরোধ ও শনাক্ত করতে পারি।

আমেরিকার বৈশ্বিক কোভিড মোকাবিলা কর্মকাণ্ডের জন্য সম্প্রতি ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জোগান দিয়েছে কংগ্রেস, যা আমরা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করব। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবন বাঁচাতে বিস্তৃত ও সমতাভিত্তিক টিকা প্রাপ্তিতে সমর্থন জোগানো; ক্ষুধার মতো কোভিডের আনুষঙ্গিক প্রভাবগুলো প্রশমিত করতে সহায়তা প্রদান; এবং বিভিন্ন দেশকে তাদের মহামারি প্রস্তুতি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করা।

আমি বলতে চাইব, এর ভিত নিহিত আছে আমেরিকান নেতৃত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্যে। এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবায় যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় দাতা, যার কিছুট গ্লোবাল ফান্ড এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের মাধ্যমে; আর কিছুটা আমাদের নিজেদের অসাধারণ স্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে; যেমন পেপফার, যেটি বিশ্বকে নিয়ে গেছে প্রথম এইডস-মুক্ত প্রজন্ম তৈরির দ্বারপ্রান্তে।

কোভ্যাক্স প্রকল্পেও আমরা দুই বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছি, যেটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কোভিড টিকা সরবরাহ করবে। আমরা আরও দুই বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা দেওয়া হবে অন্য দেশগুলো তাদের নিজস্ব অঙ্গীকার পূরণ করলে।

আমরা এরই মধ্যে আমাদের দুই নিকটতম প্রতিবেশী, মেক্সিকো ও কানাডাকে টিকা ধার দিয়েছি।

সব জায়গায়, সবার জন্য পর্যাপ্ত টিকা নিশ্চিত করতে আমরা উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বৈশ্বিক সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করব।

নিজেদের জন্য টিকার জোগান সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে হতে, আমরা সামনের দিনে অন্য দেশের সঙ্গে আরও ভাগাভাগির বিকল্প উপায়ও খুঁজে দেখছি।

আমাদের বিশ্বাস, আমরা এই ফ্রন্টে আরও অনেক কিছু করার মতো অবস্থানে থাকব।

আমি জানি, অনেক দেশই চাইছে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু করুক, কেউ কেউ মরিয়া হয়ে উঠছেন, নিজেদের দেশে কোভিড সংকটের ব্যাপ্তি ও মাত্রার কারণে। আমরা আপনাদের কথা শুনতে পাচ্ছি। আর আমি আশ্বস্ত করছি, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এগোচ্ছি।

প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের পথ দেখাবে অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ।

আমরা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য টিকার বাণিজ্য করব না। এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রশ্ন।

সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের আচরণ হবে সম্মানের; আমরা কখনোই তাদের এমন প্রতিশ্রুতি দেব না, যা আমরা রাখতে পারব না।

অন্যদের দেওয়ার জন্য যে টিকাগুলো সংগ্রহ করা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে উঁচু মানদণ্ড মেনে চলা হবে, শুধু সেগুলোই বিতরণ করা হবে যেগুলো নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত।

আমরা জোর দিই এমন পন্থায়, যা সমতার ভিত্তিতে গড়া। কোভিড এরই মধ্যে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষদের ওপর প্রবল আঘাত হেনেছে। কোভিড মোকাবিলা করতে গিয়ে জাতিগত ও লৈঙ্গিক অসমতা আরও বেড়ে যাওয়া – আমরা কোনোভাবেই হতে দিতে পারি না।

আমরা অংশীদারত্ব, বোঝা ভাগ করে নেওয়া এবং পরস্পরের শক্তিকে এক করার উদ্যোগকে বরণ করে নেব। কয়েক সপ্তাহ আগে ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ চারটি দেশ মিলে আমরা যে সহযোগিতা গড়ে তুলেছি, তা একটি ভালো উদাহরণ। আমরা একজোট হয়ে বৈশ্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছি, যেন মানুষের দোরগোড়া এবং বাহুতে যত দ্রুত সম্ভব আরও বেশি টিকা পৌঁছে দিতে পারি।

প্রসঙ্গক্রমে বলছি, আমরা বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করি, তার একটি কারণ হলো, প্রায় ক্ষেত্রেই সবাই একই মূল্যবোধ ধারণ করে। যেমন কোভ্যাক্স প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে এমনভাবে যেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়, কারণ কেবল বৃহৎ ও সমতাভিত্তিক টিকা প্রদানের মাধ্যমেই আমরা এই মহামারির অবসান ঘটাতে পারি।

শেষ পর্যন্ত আমরা বর্তমানের এই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেব, কিন্তু একই সঙ্গে নজরটা থাকবে দূরে। আমাদের শুধু এই মহামারির অবসান ঘটালেই চলবে না; পরবর্তীটির জন্য নিজেদের দেশ এবং গোটা বিশ্বকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে যেতে হবে।

এটি করতে গিয়ে, আমরা সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবস্থাকে সংস্কার ও শক্তিশালী করব, যারা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে সুরক্ষা দেয়। এ জন্য দেশগুলোর কাছ থেকে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং যখন প্রয়োজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার দরকার হবে। আমাদের দরকার হবে অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহির একটি টেকসই পন্থা, যেন পরবর্তী সংক্রমণ কাটিয়ে উঠতে সব দেশই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। এবং কী ঘটেছে তা জানতে, আমরা এই মহামারির উৎস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ এবং স্বচ্ছ তদন্তের জন্য জোর দিয়ে যাব – যাতে এমনটি আর না ঘটে।

সব মিলিয়ে, এই কাজগুলো প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ এজেন্ডার প্রধান অংশ। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতের মহামারি ও জৈব হুমকিগুলো আমরা আরও ভালোভাবে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে পারি, প্রস্তুতি নিতে পারি এবং প্রয়োজনে সাড়াও দিতে পারি। তা না হলে আমরা নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাজেভাবে হতাশ করব।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত – আমাদের জন্য সময়টা বড় করে ভাবা ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার। এবং যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উঠে দাঁড়াচ্ছে।

আমি আজ এখানে এক দুর্দান্ত নেতার সঙ্গে আছি, যিনি আমাদেরকে ঠিক এই কাজটি করতেই সহায়তা করবেন।

গেইল স্মিথ প্রেসিডেন্ট ওবামার সময়ে ইউএসএআইডির প্রশাসক ছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা ও প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন, দুই সময়েই ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে কাজ করেছেন। সেখানেই আমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং একসঙ্গে কাজ করেছি। ২০১৪ সালের ইবোলা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের কাজে নেতৃত্ব দিয়ে, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা ও এইডসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে অনেক বছর ধরে যুক্ত থেকে, তিনি জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আফ্রিকায় অতিদারিদ্র্য ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিষ্ঠান, ওয়ান ক্যাম্পেইনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহীর পদ ছেড়ে তিনি আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন।

তিনি পরীক্ষিত। তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। তিনি জোরেশোরেই কাজ করবেন। এবং গেইলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে এবং প্রশংসা করে বলতে পারি, এত শ্রম, দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে আমাদের দৌড়ের শেষ প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার মতো আর কেউ নেই।

আমি কৃতজ্ঞ যে তিনি গ্লোবাল কোভিড রেসপন্স অ্যান্ড হেলথ সিকিউরিটির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে রাজি হয়েছেন। গেইল স্মিথ, এখন ফ্লোর আপনার। এটি করার জন্য ধন্যবাদ।

 

মিজ স্মিথ: ধন্যবাদ, মিস্টার সেক্রেটারি। আপনার সঙ্গে কাজ করতে পেরে এবং আপনাকে মিস্টার সেক্রেটারি ডাকতে পেরে আমি আনন্দিত।

একে সম্ভব করার জন্য ওয়ান ক্যাম্পেইনে আমার বন্ধুদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি এই বিভাগের পুরুষ ও নারী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকব। কারণ, আমি জানি আপনারা কী করতে পারেন।

আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিশেষ করে কয়েকজন সত্যিকারের স্মার্ট বিজ্ঞানীকে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের, যেখানে আগামীকাল আমি আমার কোভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করব।

টিকা শরীরের জন্য ভালো, কিন্তু এটা মন ও আত্মার জন্যও ভালো। কারণ, এটি ভবিষ্যতের আশা জাগায়। আর আমাদের কাজ হলো সেই আশাকে অবয়ব দেওয়া।

আমি এর আগেও কিছু ভাইরাসের সঙ্গে লড়েছি এবং দুটো বিষয় শিখেছি। প্রথমটি হলো, যদি ভাইরাসটি আমাদের চেয়ে দ্রুত দৌড়ায়, তাহলে সেটি জিতে যাচ্ছে। দ্বিতীয়টি হলো, উদ্দেশ্য, বিজ্ঞান, সতর্কতা এবং নেতৃত্বের একতা ঘটলে আমরা যেকোনো ভাইরাসকে পেছনে ফেলে দিতে পারি।

আমেরিকা আগেও এই কাজ করেছে। ১৮ বছর আগে, এক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট এইচআইভি/এইডসের বিরুদ্ধে একটি সাহসী উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। একজন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট সেই মিশনকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে, ওবামা-বাইডেন প্রশাসন, কংগ্রেসের শক্তিশালী ও উদার সহায়তায়, বিশ্বের প্রথম ইবোলা মহামারিকে হারিয়ে দিয়েছিল।

এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ দুটি: প্রথমত, একটি সীমান্তবিহীন মহামারি, যা কিনা গোটা বিশ্বে জীবন ও জীবিকাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তার জীবনকালকে ছোট করে আনা এবং দ্বিতীয়ত, এটা নিশ্চিত করা যেন প্রতিরোধ, শনাক্ত ও যথাযথ সাড়া দিতে পারি ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য হুমকিগুলোর ক্ষেত্রে, যা আমরা জানি আসছে।

আমেরিকান নেতৃত্বের প্রয়োজন এখন তীব্র, এবং আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে আমরা সময়ের এই ডাকে সাড়া দিতে পারব। আমি এখানে আসতে পেরে সম্মানিত এবং আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ।